মোংলায় একসঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু-হাম, ৩ মাসে আক্রান্ত ৪৩৩

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
মোংলায় একসঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু-হাম, ৩ মাসে আক্রান্ত ৪৩৩

সূত্রঃ ফাইল ছবি

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি


বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব একসঙ্গে বাড়ছে। গত তিন মাসে এ দুই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩৩ জন। এর মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭৪ জন এবং হাম আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৯ জন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন দুজন।


উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বর্তমানে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৫ জন এবং হাম আক্রান্ত পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্ষা-পরবর্তী সময়ে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হামের টিকাদান কার্যক্রমের সীমিত বিস্তারও সংক্রমণ বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবহুল এলাকাগুলোতে নিয়মিত ও কার্যকরভাবে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে অনেকেই রোগের প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দেওয়ার পরও দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন না। জ্বর বা হাম-সদৃশ উপসর্গকে সাধারণ অসুস্থতা মনে করে অবহেলা করায় পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এদিকে রোগীর চাপ বাড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রোগীর কারণে ভর্তিকৃত কয়েকজনকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার, পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন বলেন, ডেঙ্গু ও হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঠপর্যায়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মশা নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিশুদের হামের টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা না হলে ভবিষ্যতে দুই রোগের সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এমকে/বিএম২৪