‘চেইন সিস্টেম’, র‍্যাগিং ও মানসিক চাপ: রুয়েট ছাড়ার সিদ্ধান্ত মাইশার

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
‘চেইন সিস্টেম’, র‍্যাগিং ও মানসিক চাপ: রুয়েট ছাড়ার সিদ্ধান্ত মাইশার

সূত্রঃ সংগৃহীত

আবু কাওসার মাখন;বিশেষ প্রতিনিধি


রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আর্কিটেকচার বিভাগের ২৫ সিরিজের শিক্ষার্থী মাইশা মোর্শেদ কথা বিশ্ববিদ্যালয় ও নিজের স্বপ্নের বিষয় আর্কিটেকচার ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বিভাগের কথিত ‘চেইন সিস্টেম’, মানসিক হয়রানি, সিনিয়রদের আচরণ এবং অতিরিক্ত একাডেমিক চাপ নিয়ে অভিযোগ করেছেন।


মাইশার দাবি, রুয়েটের আর্কিটেকচার বিভাগে ‘চেইন সিস্টেম’ বা তার ভাষায় ‘আমলা-কামলা’ নামে একটি প্রথা প্রচলিত রয়েছে। ওই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে তাকে কটূক্তি, অপমান ও অবহেলার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রয়োজনের সময় চেইনের সদস্যদের কাছ থেকে সহযোগিতা ও স্বাচ্ছন্দ্যও পাননি বলে জানান মাইশা।


একাডেমিক কাজের প্রয়োজনে চেইনের অন্য সদস্যদের বাসায় রাতে থাকার বা ‘নাইট স্টে’র একটি প্রচলন রয়েছে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। তবে বিষয়টি তার পরিবারের কাছে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় এটি তার জন্য বাড়তি মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে দাবি করেন মাইশা।


রুয়েট কাগজে-কলমে র‍্যাগিংমুক্ত হলেও কিছু সিনিয়রের অযাচিত আচরণ তার একাডেমিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্লাস এবং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত খাবারের সুযোগ না থাকায় শারীরিক সমস্যায় পড়ার কথাও জানান মাইশা।


ফেসবুক পোস্টে একটি হয়রানির ঘটনার বর্ণনাও দেন তিনি। তার দাবি, তিনি করেননি—এমন একটি ঘটনার দায়ভার তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাকে মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করা, খারাপ আচরণ এবং একপর্যায়ে বয়কটের চেষ্টা করা হয়। ওই সময়ে সিনিয়রদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।


বিভাগের এক সিনিয়রের মন্তব্য উদ্ধৃত করে মাইশা বলেন, আর্কিটেকচারে পড়ার সময় খাওয়া-দাওয়া কিংবা অসুস্থতার কথা বলা নিষেধ—এমন একটি মানসিকতাও সেখানে রয়েছে।


তবে মাইশার এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে রুয়েট প্রশাসন।


রুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আরিফ আহম্মদ চৌধুরী বলেন, ‘মাইশা নামের ছাত্রীর আমরা একটি আবেদন পেয়েছি। সেখানে তিনি লিখেছেন, রাজশাহীর আবহাওয়া তার স্যুট করছে না। তিনি অসুস্থ বোধ করছেন। সেই কারণে তিনি লিভ নিতে চান।’


র‍্যাগিংয়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘র‍্যাগিং বিষয়ে তিনি আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ দেননি। আর পড়াশোনায় কিছুটা চাপ থাকবেই।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটাও জেনেছি, রুয়েট প্রশাসন বা শিক্ষকদের প্রতি মাইশার কোনো অভিযোগ নেই। কোনো ছাত্র বা ছাত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য আছে কি না, এটা আমার জানা নেই।’


রুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের বক্তব্য অনুযায়ী, মাইশার লিখিত আবেদনে র‍্যাগিং বা মানসিক হয়রানির কোনো অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি বিভাগের পরিবেশ ও সিনিয়রদের আচরণ নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন।


অন্যদিকে, নিজের পোস্টে মাইশা স্পষ্ট করেছেন, রুয়েটের প্রতি তার কোনো ক্ষোভ নেই। নিজের মানসিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সুস্থতার কথা বিবেচনা করেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।


মাইশার অভিযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হতে পারে।


এমকে/বিএম২৪