নড়িয়ায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত
সূত্রঃ সংগৃহীত
রবিউল মোল্লা, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি
‘কার্যকর সাক্ষরতা ও জীবনব্যাপী শিক্ষা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইয়ুম খানের নেতৃত্বে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউএনও মো. আব্দুল কাইয়ুম খান।
সভায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শফিক আহম্মেদ, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক আলম ও তোফায়েল হোসেন, বিটিভির প্রতিনিধি মফিজুর রহমান, মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রতিনিধি কবির উজ্জামান, বৈশাখী টেলিভিশনের প্রতিনিধি আব্দুল খালেক ইমন, দৈনিক গণকণ্ঠের প্রতিনিধি সোলায়মান খান রানা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিহা খানম, মিজানুর রহমান নয়ন, সেলিনা আক্তারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জন করাই সাক্ষরতার মূল উদ্দেশ্য নয়। অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানো এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও কার্যকর সাক্ষরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জ্ঞানভিত্তিক ও সচেতন সমাজ গঠনে সবার জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, সাক্ষরতা মানুষের জীবনকে আলোকিত করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। পড়তে ও লিখতে পারার পাশাপাশি একজন মানুষ যদি নিজের অধিকার, দায়িত্ব ও পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে সচেতন হন, তাহলে সমাজও এগিয়ে যায়। তাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি জীবনব্যাপী শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থী এবং যারা এখনো সাক্ষরতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদের শিক্ষার আওতায় আনতে পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার সক্ষমতা অর্জনও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সমাজের প্রতিটি মানুষকে শিক্ষার আওতায় এনে দক্ষ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার আলো সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দিতে শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনে কর্মসূচি পালন করলেই হবে না। সারা বছরই সচেতনতা ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এ সময় সাক্ষরতার গুরুত্ব, শিক্ষার প্রসার এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
এমকে/বিএম২৪









