বাগেরহাটে কৃষি কার্ডের তালিকায় ২৬ হাজার ৩৩৮ কৃষক

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
বাগেরহাটে কৃষি কার্ডের তালিকায় ২৬ হাজার ৩৩৮ কৃষক

সূত্রঃ বিডি মেইল

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি


কৃষকদের জন্য প্রস্তাবিত কৃষি কার্ড কর্মসূচিতে বাগেরহাটে প্রথম ধাপে ২৬ হাজার ৩৩৮ জন কৃষকের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায় চালু হতে যাওয়া এ কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছরের মধ্যে বাগেরহাট জেলার ২ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৮ জন কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে ৩১ হাজার ৩৭৪ জনকে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ২৬ হাজার ৩৩৮ জনের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই শেষ হয়েছে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক অপূর্ব লাল সরকার বাসসকে বলেন, প্রথম ধাপের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২৬ হাজার ৩৩৮ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বাকি তথ্যও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংগ্রহ করা হবে।


প্রথম ব্লকের জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। কর্মসূচিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার রনজিতপুর, চুলকাঠি ও খানপুর, ফকিরহাটের দেয়াপাড়া, কাঠালতলা ও সিংগাতী, মোল্লাহাটের চুনখোলা, শাসন ও কাচনা, রামপালের ইসলামাবাদ, গিলাতলা ও বাঁশতলী, কচুয়ার বাধাল, সাংদিয়া ও পিংগরিয়া, মোড়েলগঞ্জের চালিতাবুনিয়া ও খাওলিয়া, শরণখোলার খোন্তাকাটা, গোলবুনিয়া ও নলবুনিয়া, মোংলার চিলা, জয়মনি ও হলদিবুনিয়া এবং চিতলমারীর চরডাকাতিয়া ও চরবানিয়ারী এলাকার কৃষকরা রয়েছেন।


সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের কমিটি মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করেছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২৬ হাজার ৩৩৮ জন কৃষকের নাম চূড়ান্ত করে ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।


প্রতিটি কার্ডধারী কৃষক প্রতিবছর ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরকারি অনুদান পাবেন। জনতা, সোনালী ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এ অর্থ বিতরণ করা হবে।


এ ছাড়া কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সেচ সুবিধা, প্রশিক্ষণ, কৃষি যন্ত্রপাতি, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি বীমা প্রশিক্ষণ, ভর্তুকি-প্রণোদনা, ঋণ ও কৃষি উপকরণ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।


বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ হাজ্বি মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হবে। এটি ডেবিট কার্ড হিসেবেও ব্যবহৃত হবে এবং এর মাধ্যমে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে।


তিনি জানান, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। ওইদিন অনলাইনে বাগেরহাটের উপকূলীয় রামপাল উপজেলাকে কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার প্রত্যাশা রয়েছে।


কৃষি বিভাগ বলছে, বাগেরহাটের কৃষি উৎপাদন প্রতিবছর লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো নানা প্রাকৃতিক ঝুঁকির মুখে পড়ে। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কৃষকরা খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। কৃষি কার্ড তাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, উপকরণ ও বাজারসংযোগের সুবিধা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।