গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৬২৭ শ্রমিক ছাঁটাই

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে ৬২৭ শ্রমিক ছাঁটাই

সূত্রঃ ফাইল ছবি

গাজীপুর প্রতিনিধি


গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানের ৬২৭ শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কারখানার প্রধান ফটকে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের নামের তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়।


এ তালিকা দেখতে কারখানার সামনে ভিড় করেন শ্রমিকেরা। এ সময় তাঁদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা যায়।


ছাঁটাই করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—কেয়া গ্রুপের নীট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও কেয়া ইয়ার্ন মিলস লিমিটেড।


সোমবার সন্ধ্যায় কারখানার প্রধান ফটকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা ছাঁটাইয়ের নোটিশ সাঁটানো হয়।


নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবলের কারণে উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।


বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ২০ ধারা অনুযায়ী অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ছাঁটাই করা হবে। ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কারখানায় নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


এ ছাড়া বর্তমানে যেসব শ্রমিকের চাকরি বহাল রয়েছে, তাঁরা লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী লে-অফের সুবিধা পাবেন।


কেয়া গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের ব্যবস্থাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে শ্রম আইন অনুযায়ী সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।


গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, কেয়া গ্রুপ কর্তৃপক্ষ ৬২৭ জনকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার প্রধান ফটকে শিল্প পুলিশের পাশাপাশি গাজীপুর মহানগর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশ অনুযায়ী, ব্যাংকিং জটিলতা ও গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় গত ৬ জুন থেকে কারখানাটি লে-অফে রয়েছে। এরপর কয়েক দফায় লে-অফের মেয়াদ বাড়ানো হয়।