চবিতে শতভাগ আবাসনসহ পাঁচ দফা দাবি ছাত্রশিবিরের

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
চবিতে শতভাগ আবাসনসহ পাঁচ দফা দাবি ছাত্রশিবিরের

সূত্রঃ সংগৃহীত

আহমেদ মুনহা; চবি প্রতিনিধি 


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা, আবাসন ভাতা চালু, মেধার ভিত্তিতে অটোমেশন পদ্ধতিতে হলের আসন বণ্টন, পরিবহনব্যবস্থার সংস্কার এবং চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আসন দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি।


আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি। সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি হাবিব উল্লাহ খালেদ সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।


লিখিত বক্তব্যে ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় এটিকে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হলেও প্রায় ছয় দশক পরও অধিকাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত হয়নি। তাঁর দাবি, বর্তমানে ২০ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের আশপাশের কটেজ, মেস ও চট্টগ্রাম শহরে উচ্চ ভাড়ায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

ছাত্রশিবিরের সভাপতি বলেন, শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে শতভাগ আবাসনের দাবি জানিয়ে এলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এর সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালুর দাবি জানান।


ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, সম্প্রতি ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কয়েকটি হলে অবৈধভাবে আসন দখলের চেষ্টা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সুপারিশে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের আসন বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কোনো নথি বা নির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।

তিনি বলেন, হলের আসন পাওয়া শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার। রাজনৈতিক বিবেচনায় আসন বরাদ্দ দেওয়া হলে তাঁরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন।

সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্টের ঘটনা তদন্তের দাবি

হলের আসন দখলের প্রসঙ্গে ছাত্রশিবিরের সভাপতি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি হলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী হলের সদ্য পদত্যাগ করা প্রভোস্টকে হুমকি ও চাপ দেওয়ার অভিযোগের ঘটনাটিও তিনি উল্লেখ করেন।

এ ঘটনায় ছাত্রদলের এক নেতার আচরণের তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলে বা তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থী না থাকলে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁর জন্য আবাসিক আসন ধরে রাখার সুযোগ না দেওয়ার দাবি করেন।

ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শিক্ষার্থীদের জন্য; কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের পুনর্বাসনের জায়গা হিসেবে হল ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত নয়। অতীতের মতো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আসন বরাদ্দের সংস্কৃতিতে ফিরে যেতে চান না তাঁরা।

পাঁচ দফা দাবি

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—

১. বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

২. শতভাগ আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আবাসন ভাতা চালু করতে হবে।

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করতে হবে।

৪. অটোমেশন পদ্ধতিতে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধার ভিত্তিতে হলের আসন বণ্টন করতে হবে।

৫. অবিলম্বে চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক রবিউল ইসলাম, বায়তুলমাল সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা, আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হারেস মাতব্বরসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



এমকে/বিএম২৪