গুমের তদন্তে শৃঙ্খলা বাহিনী নয়, মানবাধিকার কমিশনের দাবি
সূত্রঃ সংগৃহীত
ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী ব্যুরো
গুমসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরীর অলোকার মোড় চেম্বার অব কমার্সের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা এই দাবি জানান।
রোববার (৩০ আগস্ট) গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার সংগঠন অধিকার’র রাজশাহী সমন্বয়ক ও আরইউজে’র সহসভাপতি সাংবাদিক মঈন উদ্দিন। এতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত, দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক ও কবি সোহেল মাহবুব, রিভার সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা রাব্বানী, মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনোয়ার হোসেন, রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক হুজাইফা, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ এবং মানবাধিকার কর্মী নুরুল আলমসহ জেলা ও মহানগরীর শতাধিক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক এম শামিম আক্তার। এছাড়া বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অধিকার’র পক্ষ থেকে সংগঠনটির বিবৃতি পাঠ করেন গুম থেকে ফিরে আসা আল আমিন হোসেন।
বক্তারা বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্ত কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকলে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়, কারণ অতীতে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে প্রস্তাবিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় সরকার অন্য কোনো বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলের কাছে তদন্তভার দেওয়ার যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তাতেও নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
মানববন্ধনে অধিকার’র পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে এবং বিষয়টি আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
২. গুমের শিকার যেসব ব্যক্তি এখনও ফিরে আসেননি, তাঁদের স্ত্রী-সন্তানরা যাতে গুম হওয়া ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. গুমের পর ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং মিথ্যা সাক্ষ্য বা জোরপূর্বক আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দেওয়া সাজা ও মামলার বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
এমকে/বিএম২৪









