‘ইন্টেরিম সাত দিনে পারে, সরকার ছয় মাসেও পারে না কেন?’
সূত্রঃ সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় সংসদে শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানিয়েছেন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি একদিন বা সাত দিনের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তাহলে বর্তমান সরকারের ছয় মাসেও ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করতে এত সময় লাগছে কেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে ৭১ বিধিতে দেওয়া মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব ও সম্পূরক প্রশ্নে এ আলোচনা হয়।
মো. মোশারফ হোসেন বলেন, গত ১৭ থেকে ২০ বছরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবক বেকার হয়েছেন। তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত ছিল। এখন সেই প্রক্রিয়া সহজ করে শিক্ষিত বেকার যুবকসহ দেশের সাধারণ মানুষকে কাজের সুযোগ করে দেওয়া উচিত।
সংসদ সদস্য বলেন, “ইন্টেরিম গভমেন্ট যদি এটাকে একদিন বা সাত দিনে পারে, তাহলে আমাদের বর্তমান সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা উচিত বলে আমি মনে করি।”
তিনি আরও বলেন, চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরাও ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। তাই দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেন, জনগণের স্বার্থে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রেখেছে। তবে আইন ও বিধি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা, জেলা-উপজেলা ও অন্যান্য ক্রয়কারী কার্যালয়ে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস অনুযায়ী ক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মূলত সীমিত দরপত্র পদ্ধতি (এলটিএম) ও উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) অনুসরণ করা হয়। এলটিএমের ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত মূল্য সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর ওটিএম যেকোনো মূল্যের ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
এ সময় স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী, ছয় মাস চলে গেল, আর কয় মাস লাগবে?”
পরে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তাৎক্ষণিকভাবে যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, বর্তমান সরকার একইভাবে কাজ করার সুযোগ পায়নি। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইন ও বিধি মেনেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ছিল একটি সাময়িক ব্যবস্থা। সে সময় নেওয়া সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের বাধ্যবাধকতা বর্তমান সরকারের মতো ছিল না।
আইনমন্ত্রী বলেন, “ভালো কাজ করতে গেলে অনেক সময় একটু সময় লাগে। আইন অনুসরণ করতে হয়, নিয়ম-কানুনের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। তাড়াহুড়ো করে আমরা যদি কোনো আইনের ব্যত্যয় করি, তাহলে দেশবাসীর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।”
তবে মোশারফ হোসেনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে সংসদ সদস্যের বক্তব্য “অত্যন্ত যুক্তিসংগত”।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, গত ১৭ বছরে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষকে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে দূরে রাখতে একটি বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।
এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে মন্ত্রিসভা একটি সাব-কমিটি গঠন করেছে বলে জানান তিনি। কয়েক দফা বৈঠকের পর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি খসড়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, অচিরেই খসড়াটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই টেন্ডার খাতের সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন ধরনের বাধা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এমকে/বিএম২৪









