সরকারি চাকরিতে ভাইভা নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৬ এএম
সরকারি চাকরিতে ভাইভা নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ

সূত্রঃ সংগৃহীত

জবি প্রতিনিধি


সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের শিক্ষার্থীরা।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাহাদুর শাহ পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।


বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরির নিয়োগ বিধিমালায় প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রতিবাদ জানান। তাদের অভিযোগ, লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তদবির, পক্ষপাত ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে প্রভাবশালীদের সুযোগ পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।


মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল ‘ভাইবা কোটার ঠাঁই নাই’, ‘আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘তদবিরের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভাইবা মার্কের কবর দে’ এবং ‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না’।


শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারি চাকরির নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের মেধা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের সুযোগ বেশি থাকে। সেখানে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানো হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের মধ্যে যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখার দাবি জানান তারা।


উল্লেখ্য, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমানোর মাধ্যমে নিয়োগ বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রস্তাবের প্রতিবাদেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।


এর আগে মঙ্গলবার সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসনিক জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


তবে শিক্ষার্থীরা প্রস্তাবিত পরিবর্তন পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।