যৌন হয়রানি-দুর্নীতিতে রাবি অধ্যাপক প্রভাস কুমার চাকরিচ্যুত

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
যৌন হয়রানি-দুর্নীতিতে রাবি অধ্যাপক প্রভাস কুমার চাকরিচ্যুত

সূত্রঃ সংগৃহীত

রাবি প্রতিনিধি


যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমার কর্মকারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় তাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।


উপাচার্য বলেন, অধ্যাপক প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটিগুলোর প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতেই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ জানান, এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিকভাবে ওই কমিটিগুলো তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।


তিনি বলেন, উচ্চতর কমিটিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের একজন প্রতিনিধি রাখার সুযোগ থাকলেও প্রভাস কুমার কোনো প্রতিনিধি দেননি। তবে বিভিন্ন সময়ে তিনি লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। উচ্চতর তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে।


এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে চেম্বারে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানির অভিযোগ ওঠে। ওই শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিতির নম্বর ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে শিক্ষকের কক্ষে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়।


অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় শিক্ষক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের বিষয়ে সাজেশন দেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীকে খাতায় উত্তর লিখতে বলেন এবং ছবি তুলতে নিষেধ করেন। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করেন এবং অশালীন প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করা হয়।


ঘটনার বিচার চেয়ে একই বছরের ১৩ আগস্ট ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বিভাগের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে বিষয়টি তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার পর প্রশাসন আরও তদন্তের উদ্যোগ নেয়।


পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।



এমকে/বিএম২৪