বিভ্রান্তকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সূত্রঃ সংগৃহীত
জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে যারা বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপরও নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, ভিক্ষু ও পাদ্রীসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী রয়েছে। তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং অতীতে তারা কী করেছে, তা বিবেচনায় রাখতে হবে। দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কোনো বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বিভ্রান্তকারীরা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করলে অতীতের মতো তাদের যথাযথ জবাব দিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জের নারীদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানি এবং অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধীদের আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়। একজন প্রতিবন্ধীর হাতে চাকরির নিয়োগপত্রও তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর রাজপথে যারা অনুপস্থিত ছিলেন, তারা এখন সংস্কারের নামে নানা কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। বিএনপি ২০২২ সালেই রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কার্যকর বাস্তবায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি কৃষির আধুনিকায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন মিল, কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশের মানুষকে আত্মনির্ভরশীল না করে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না। প্রতিটি নাগরিককে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
অন্য কোনো দেশের অনুকরণে নয়, বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি শ্রেণির মানুষ যেন রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রাপ্য মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। নারীদের পেছনে রেখে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ এবং ভালো ফলাফলের জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কৃষকদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা সরকারের অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, এতে ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন। সেচ সুবিধা বাড়ানো ও পানি সংকট মোকাবিলায় দেশব্যাপী ২৫০ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ভাষাগত দক্ষতার মাধ্যমে তাদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মেধা ও প্রতিভার বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চালু করা ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালুর কথাও জানান তিনি।
সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কল্যাণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জন্য সামাজিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অসচ্ছল, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারের সময় বঞ্চনার শিকার ১ লাখ ২৩ হাজার শিক্ষকের অবসর ভাতার জটিলতা নিরসন করে অর্থ প্রদান সম্পন্ন করেছে বর্তমান সরকার।
বিএনপি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষায় সহায়তা, কৃষকের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন করাই তাদের রাজনীতির লক্ষ্য। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মাজহারুল ইসলাম ও জালাল উদ্দীনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
এমকে/বিএম২৪









