সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে নীতিবান ও মেধাবী তরুণ নেতৃত্বের বিকল্প নেই
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে প্রধান অন্তরায় সেই দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে রাজনীতিকে জনসেবা নয়, বরং ব্যক্তিগত ব্যবসা ও স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং জবাবদিহিতার সংস্কৃতি যতদিন না দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, ততদিন কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়।
তরুণ প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি দেশের সকল মেধাবী, শিক্ষিত ও বিবেকবান তরুণকে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা যদি আজ এগিয়ে না আসেন, তবে আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্রমেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। আমরা যে সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও সাম্যভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি ন্যায়বিচার, সততা ও সুশাসনের ভিত্তিতে সেই স্বপ্নের দেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি আপনারা নিজেই। আপনারা যারা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন এবং নিজ নিজ যোগ্যতায় অর্জনের শিখরে পৌঁছেছেন আপনাদের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসা আজ সময়ের দাবি। কারণ, মেধা ও নৈতিকতাসম্পন্ন নেতৃত্বের উপস্থিতি পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ইতিবাচকভাবে রূপান্তরিত করতে পারে।
রাষ্ট্রচিন্তা ও জনসেবার পথ কখনোই মসৃণ নয়। এখানে অসংখ্য চড়াই-উতরাই, সমালোচনা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়; গ্রহণ করতে হয় ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা-সমালোচনা। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, আমাদের তরুণদের সেই প্রতিকূলতা জয় করার মতো মানসিক শক্তি ও সক্ষমতা রয়েছে।
একটি নিরাপদ, আধুনিক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়তে শিক্ষিত ও নীতিবান নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যদি অদক্ষ, অযোগ্য ও নৈতিকতাহীন মানুষের হাতে পড়ে, তবে দুর্নীতি, অপশাসন ও স্বেচ্ছাচারিতা বিস্তার লাভ করাই স্বাভাবিক। রাষ্ট্রীয় সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে যার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হয় দেশের সাধারণ জনগণকে।
এই স্থবিরতা ও অপসংস্কৃতি থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ সুস্থ পারিবারিক শিক্ষা, শক্ত নৈতিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেমিক তরুণদের রাজনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতি। রাজনীতি যখন সৎ, দক্ষ ও যোগ্য মানুষের হাতে ন্যস্ত হবে, তখনই রাষ্ট্রের প্রতিটি কাঠামো শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক এবং জনকল্যাণমুখী হয়ে উঠবে।
আজ সময় এসেছে তরুণদের দায়িত্ব নেওয়ার। কারণ আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব, নিরাপত্তা ও সুশাসনের আলোকবর্তিকা বহন করার চূড়ান্ত দায়িত্ব আপনাদের কাঁধেই।
লেখা:
মোঃ মারুফ মর্তুজা
সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও
সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদল









