সংস্কৃতির শক্তিতেই ফ্যাসিবাদের ছায়া দূর করতে হবে: শফিকুর রহমান

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
সংস্কৃতির শক্তিতেই ফ্যাসিবাদের ছায়া দূর করতে হবে: শফিকুর রহমান

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক



বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ ও তার সহযোগীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের প্রভাব এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এই কালো ছায়া দূর করতে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে হবে এবং দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ আয়োজিত ‘জুলাই সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, সাংস্কৃতিক চেতনা ও জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই চেতনা ধরে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, মত ও আদর্শে ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যারা জাতিকে বিভক্ত করতে চায়, তারা দেশের শত্রু।


তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের প্রভাব আপাতত বিদায় নিয়েছে। তবে জাতীয় ঐক্য অটুট থাকলে এই অপশক্তিকে স্থায়ীভাবে পরাজিত করা সম্ভব হবে।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেখক, আইনজীবী ও সমাজসেবক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। সঞ্চালনায় ছিলেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সেক্রেটারি ড. মনোয়ারুল ইসলাম, বাচিকশিল্পী শরীফ বায়জীদ মাহমুদ, নাট্যকার মাহবুব মুকুল ও আবৃত্তিকার আহসান হাবীব খান।


উৎসবে দেশের বিশিষ্ট শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সঙ্গীত কেন্দ্রের সভাপতি তাফাজ্জল হোসাইন খান, কবি ও সম্পাদক মোশাররফ হোসেন খান, বাংলাদেশ চারুশিল্পী পরিষদের সভাপতি ইব্রাহিম মণ্ডল, কবিতা বাংলাদেশের সেক্রেটারি ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, গীতিকার সাইফুল আরেফিন লেলিন এবং জুলাই শহীদ আব্দুল্লাহ তাহিরের মা।


অনুষ্ঠানে তেলাওয়াত, আবৃত্তি, জারি, সংগীত, কাওয়ালি, গম্ভীরা ও অভিনয়সহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শিরোনামের একটি বিশেষ নাটকে জুলাই আন্দোলনের আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও গণজাগরণের শিল্পরূপ তুলে ধরা হয়।



এমকে/বিএম২৪