ভারত থেকে হাসিনার বক্তব্য সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: এনসিপি

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
ভারত থেকে হাসিনার বক্তব্য সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: এনসিপি

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক



জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ব্রিফিংকে তারা শুধু আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখছেন না; বরং এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের অংশ বলে মনে করছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্রে ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে একটি ‘টুল’ হিসেবে ব্যবহার করছে।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীতে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর তিনি প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দেন। সর্বশেষ ঘোষিত ব্রিফিংয়ে তিনি সরাসরি উপস্থিত না হয়ে শুধু কণ্ঠবার্তা দেন। এ বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, শেখ হাসিনাকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেই তাদের আশঙ্কা।


তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার যে অপচেষ্টা চলছে, তাতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ প্রকাশ্য সহযোগিতা করছে। এতে ভবিষ্যতে জাতীয় পুনর্মিলনের (রিকনসিলিয়েশন) সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, গণহত্যার বিচার শেষে পুনর্মিলনের যে অবস্থান বিভিন্ন মহল থেকে এসেছে, বর্তমান পরিস্থিতি সেই পথও সংকুচিত করছে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এনসিপিকে আরও কঠোর সাংগঠনিক অবস্থান নিতে হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।


সরকারের কূটনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনার ব্রিফিং ঠেকাতে সরকার ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণেই শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ এবং ভারত যৌথভাবে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির সুযোগ পেয়েছে।


তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সরকার আরও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে ভারত থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে পদক্ষেপ নেবে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা জোরদার করবে।


সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি কয়েকটি দাবি তুলে ধরে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, এ ঘটনার পর সরকারের দেওয়া আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট কঠোর ছিল না। তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা দেওয়ারও দাবি জানান।


এমকে/বিএম২