২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
সূত্রঃ সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনের পাশাপাশি বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে আরও এগিয়ে যেতে দেখতে চায়। এজন্য দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মক্ষম জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।
দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে সরকারের চেয়ে কার্যকর পরিকল্পনা থাকলে তা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অপপ্রচার চালানো হলে সংশ্লিষ্টদের জনগণের কাছেই জবাবদিহি করতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করা কোনো রাজনীতিবিদের দায়িত্ব নয়। বরং জনগণকে ধৈর্য ধরতে শেখানো এবং সঠিক পথ দেখানোই একজন রাজনীতিবিদের দায়িত্ব।
বর্তমান রাজনীতিতে মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার কোনো স্থান নেই উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি চলেছে। এখন রাজনীতিবিদদের জনগণের কাছে উন্নয়ন ও কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির রাজনীতি বাদ দিয়ে জনকল্যাণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য, জনগণ এখন আর এ ধরনের রাজনীতি সমর্থন করে না।
ঢাকা-১৭ আসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই এলাকার প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন। পাশের লেক পরিষ্কার করতেই ছয় মাস সময় লেগেছে। এ ধরনের কাজ সহজ নয়, কিন্তু সমালোচনা করা সহজ। তাই যারা সমালোচনা করছেন, তাদের মাঠে নেমে মানুষের ও দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে—এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে টিকে ছিলেন। অথচ যারা এখন উচ্চকণ্ঠে বক্তব্য দিচ্ছেন, গত ১৭ বছরে তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। এ সময় তিনি নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম ও হত্যার বিভিন্ন ঘটনার কথাও তুলে ধরেন।
একটি রাজনৈতিক দলের অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ১৯৭১, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে ভুল করেছে এবং ২০২৬ সালেও জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি তাদের উসকানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের কল্যাণে কার্যকর পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান। জনগণের স্বার্থে ভালো কোনো পরিকল্পনা হলে সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে/বিএম২৪









