চিকিৎসক-রোগীর আস্থাই মানসম্মত চিকিৎসার ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী
সূত্রঃ সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০২৬: চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নবনির্মিত ১৫ তলা ‘ভবন-২’ (নিউরোসায়েন্স-২)-এর উদ্বোধন ও ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিংবা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের বিশ্বাস ও মর্যাদার সম্পর্ক নষ্ট হয়, তাহলে হাসপাতালের অবকাঠামো যতই উন্নত করা হোক, চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা কঠিন হবে।
তিনি বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়। উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে দক্ষ জনবল, সুশাসন ও সময়োপযোগী নীতির সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।
নতুন ভবন উদ্বোধনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হয়ে হাসপাতালটি এখন আরও বড় পরিসরে রূপ নিয়েছে।
চিকিৎসাক্ষেত্রে মানবিক আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মানবিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই। রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সহানুভূতির সঙ্গে আচরণ চিকিৎসাসেবার মান আরও বাড়িয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাসেবা ও হাসপাতালের পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখার দায়িত্ব শুধু চিকিৎসকদের নয়; এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত চিকিৎসা শুধু শহরের বিত্তবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে তাকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা বলা যায় না। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে বাধ্য না হন, সে জন্য ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে।
এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের মেয়াদে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সুস্থ আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সরকার নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের পাশাপাশি শিশুস্বাস্থ্যের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার শুধু স্লোগান নয়। এমন একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সরকারের লক্ষ্য, যাতে চিকিৎসার জন্য কোনো নাগরিককে বিদেশে যেতে না হয় এবং অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
নতুন ভবনের ফলে স্ট্রোক, এপিলেপসি, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া ও মেরুদণ্ডের জটিল রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সর্বাধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক সুবিধাসমৃদ্ধ ভবনটি চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে/বিএম২৪








