গুণীজনদের সম্মানেই তৈরি হয় আলোকিত সমাজ: চবি উপাচার্য
সূত্রঃ সংগৃহীত
আহমেদ মুনহা,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেছেন, সমাজে গুণীজনদের যথাযথ সময়ে উপযুক্ত সম্মান দেওয়া সবার নৈতিক দায়িত্ব। গুণী ও সমাজসেবকদের সম্মান জানালে তাঁদের আদর্শ অনুসরণ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যেও অনেক গুণী মানুষের সৃষ্টি হবে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় জোবরা পশ্চিম পট্টি স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক চৌধুরীর জীবনীনির্ভর গ্রন্থ ‘প্রান্তিকে প্রদীপ্ত ফজলুল হক চৌধুরী’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক বাবু প্রশান্ত কুমার বড়ুয়া গ্রন্থটি রচনা করেছেন।
উপাচার্য বলেন, মরহুম ফজলুল হক চৌধুরী ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ সমাজসেবক। নিজের নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিবর্তে তিনি এলাকার মানুষের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর ত্যাগ ও অসাম্প্রদায়িক আদর্শ আজও মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
গ্রন্থটির লেখক প্রশান্ত কুমার বড়ুয়ার প্রশংসা করে উপাচার্য বলেন, ৮৭ বছর বয়সেও তিনি বইটি রচনা করে শুধু একজন মানুষের জীবনকাহিনি তুলে ধরেননি; এর মাধ্যমে এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গুরুত্বপূর্ণ দলিলও সংরক্ষণ করেছেন।
তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ালেই সাফল্য আসে না। মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, সংঘাত নয়; সৌহার্দ্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক বাবু প্রশান্ত কুমার বড়ুয়া, চবি গ্রন্থাগারিক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এ. এফ. এম. সানাউল্লাহ, আজীবন দাতা সদস্য মনজুরুল হাসান চৌধুরী সেলিম, বিএনপি নেতা উদয় কুসুম কুমার বড়ুয়া, সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সালেহ জহুর ও চবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. সেলিম। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সফিউল আলম।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা মরহুম ফজলুল হক চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে গ্রন্থটি শিক্ষার্থী ও প্রতিটি পরিবারের জন্য আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক, দাতা পরিবারের সদস্য, আমন্ত্রিত অতিথি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে/বিএম২৪









