রাত ৮টায় বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও খোলা দোকান-শপিং মল

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
রাত ৮টায় বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও খোলা দোকান-শপিং মল

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:



বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার মধ্যে দেশের সব মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে নতুন এই নির্দেশনা কার্যকরের প্রথম দিনেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত সময়ের পরও দোকানপাট ও শপিং মল খোলা থাকতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও সাইনবোর্ড ও বিজ্ঞাপনের বাতিও জ্বলতে দেখা যায়।


শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যার পর রাজধানীর বাড্ডার বিভিন্ন মার্কেট ও বাণিজ্যিক এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।


সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং এরপর সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


তবে সরেজমিনে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও কিছু দোকানে বন্ধের কোনো প্রস্তুতি নেই। দোকানের ভেতরে ক্রেতারা কেনাকাটা করছেন, কর্মীরা পণ্য সাজাচ্ছেন। কোথাও আবার শাটার খোলা রেখেই বেচাকেনা চলতে দেখা যায়। অনেক দোকান ও মার্কেট রাত সাড়ে ৮টার পর বন্ধ করতে শুরু করে।


বাড্ডার ‘সুবাস্তু নজর ভ্যালী শপিং মল’-এর প্রধান ফটক বন্ধ থাকলেও পার্কিংয়ের দিকের একটি গেট খোলা ছিল। সেই গেট দিয়ে ক্রেতারা মলের ভেতরে প্রবেশ করছিলেন। পাঁচতলা মলটির বিভিন্ন ফ্লোরে দোকানপাট খোলা ছিল এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের বেচাকেনা চলছিল রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।


বিক্রেতারা জানান, শুক্রবার অন্য দিনের তুলনায় ক্রেতার চাপ বেশি থাকে। বিশেষ করে বিকেল সাড়ে ৫টার পর কেনাবেচা জমে ওঠে। ফলে রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করলে ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


পোশাক বিক্রেতা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার পর থেকেই মূলত ক্রেতা বাড়তে থাকে। দিনের বড় একটি সময় মানুষ অফিস ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাই ব্যস্ত দিনে দোকান খোলার সময় কিছুটা বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।


ঘড়ি ও চশমার দোকানের বিক্রেতা মো. আতিক বলেন, সন্ধ্যার পর তাদের দোকানে ক্রেতা বাড়ে। বিকেল ৫টার আগে বিক্রি তুলনামূলক কম থাকে। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত মানতে হবে বলেও জানান তিনি।


মলে কেনাকাটা করতে আসা তানজিলা আক্তার বলেন, কর্মব্যস্ততার কারণে সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে কেনাকাটার সময় পাওয়া যায় না। তাই শুক্রবার বিকেল বা সন্ধ্যায় মার্কেটে আসেন। সন্ধ্যার আগেই দোকান বন্ধ হয়ে গেলে চাকরিজীবীসহ অনেকের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।


তবে বাড্ডা, শাহজাদপুর ও মেরুল বাড্ডা এলাকার কিছু দোকানকে নির্ধারিত সময় মেনে বন্ধ করতেও দেখা গেছে। অন্যদিকে প্রগতি সরণি এলাকায় এপেক্স, বাটা ও ওরিয়নের শোরুমে রাত সাড়ে ৮টার পরও বেচাকেনা চলতে দেখা যায়। এসব প্রতিষ্ঠানে ক্রেতা আকর্ষণে আলোকসজ্জাও জ্বলছিল। কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডেও আলো দেখা যায়।


ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ জানান, দোকান বন্ধের নির্দেশনা সম্পর্কে তারা অবগত। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে ক্রেতা থাকলে তাদের কেনাকাটা শেষ করার সুযোগ দিতে কিছুটা সময় লাগে।


এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠেয় বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকানসহ জরুরি সেবাগুলো এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।


কয়েক দফায় বদলেছে দোকান বন্ধের সময়


বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও জ্বালানি সংকটের কারণে এর আগেও কয়েক দফা দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে।


জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমানোর পাশাপাশি দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়।


পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলার সময়সীমা কিছুটা শিথিল করা হলেও ঈদের পর আবার সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশনা কার্যকর করা হয়।


পরে ব্যবসায়ীরা দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার দাবি জানান। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ জুন দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলার সময় বাড়িয়ে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত করা হয়।


সর্বশেষ সেই সময় আরও এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।



এমকে/বিএম২৪