গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী: খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম
গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী: খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন

সূত্রঃ ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক



বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া এক অনন্য নাম। একসময় সাধারণ গৃহবধূ হিসেবে জীবন কাটালেও স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।


১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়ার শৈশব ও শিক্ষাজীবনের বড় অংশ কাটে দিনাজপুরে। ১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৬৩ সালে দিনাজপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ১৯৬০ সালের ৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর তরুণ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই ছেলে—তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো।


১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই সন্তানকে নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দিন কাটান খালেদা জিয়া। চট্টগ্রামে আত্মগোপনে থাকার পর নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় আসেন। পরে ২ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীর একটি বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেনা হেফাজতে ছিলেন।


১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। এর পরের বছর বিএনপির নেতাদের অনুরোধে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব নেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান নেত্রীতে পরিণত হন।


১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে। খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর প্রথম মেয়াদে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নারী কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিস্তারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়।


এরপর ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে স্বল্প সময়ের জন্য দ্বিতীয়বার এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের নেতৃত্ব দিয়ে তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। তাঁর সরকারের সময় শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়।


২০০৭ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হন এবং পরের বছর মুক্তি পান। এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিএনপির নেতৃত্ব ধরে রাখেন। ২০১৮ সালে দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডের পর কারাবন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০২০ সালের মার্চে নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান তিনি।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের সময়ও খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতীক হয়ে ছিলেন। ওই বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তাঁর মুক্তির পথ আরও সুগম হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা মামলা, কারাবাস ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও তিনি দলের নেতৃত্বে সক্রিয় ছিলেন।


বিএনপির দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব দেওয়ার পর তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে তারেক রহমান দলের হাল ধরেন। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সরকার গঠন করে বলে প্রতিবেদনের তথ্যের দাবি।


ফাইলের তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া গত ৩০ ডিসেম্বর মারা যান। মৃত্যুর পর তাঁর জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। আগামী ১৫ আগস্ট তাঁর জন্মদিনে প্রথমবার তাঁর অনুপস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাঁকে স্মরণ করবেন।



এমকে/বিএম২৪