নজরদারি জোরদারে সুন্দরবনে কমেছে বন অপরাধ

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
নজরদারি জোরদারে সুন্দরবনে কমেছে বন অপরাধ

সূত্রঃ সংগৃহীত

প্রিন্স মন্ডল অলিফ; বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি



কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুফল মিলছে সুন্দরবনে। বন বিভাগের দাবি, পূর্ব সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী শিকার ও বনজ সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে হরিণ শিকার এবং বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।


বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন, জুলাই ও ১৩ আগস্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ সময়ে পূর্ব সুন্দরবনে ৩ হাজার ২১৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৪টি ইউডিওআর মামলা করা হয়। উদ্ধার করা হয়েছে ১৩টি নৌকা, ৬টি মাছ ধরার জাল, ৩২ বোতল, ২ লিটার তরল ও ৩ প্যাকেট বিষ। এছাড়া ১৫১ দশমিক ৫ কেজি বিষযুক্ত চিংড়ি, দুই বস্তা শুঁটকি চিংড়ি এবং ৫ কেজি শুঁটকি মাছ জব্দ করা হয়েছে।


গত বছরের একই সময়ে ৮টি মামলা করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় ২৭টি নৌকা, ২১টি জাল, ৫২ বোতল ও ৫ লিটার বিষসহ বিপুল পরিমাণ বিষযুক্ত মাছ ও চিংড়ি উদ্ধার হয়। এ বছরের পরিসংখ্যানে বন অপরাধ কমার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে বন বিভাগ।


হরিণ শিকার বন্ধেও অগ্রগতি হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসে ৯ জন শিকারিকে গ্রেপ্তার করে ৬টি মামলা করা হয়েছে। এ সময়ে কোনো হরিণের মাংস, চামড়া বা মৃত হরিণ উদ্ধার হয়নি। তবে শিকারিদের পাতা ১৪ হাজার ৩৮১ ফুট মালা ফাঁদ, ১১০টি ছিটকা ফাঁদ, ৪৬ ফুট হাটা ফাঁদ ও ৬৯টি ডোয়া ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি নৌকা ও তিনটি ট্রলার আটক করা হয়।


অন্যদিকে, ২০২৫ সালের একই সময়ে ২০টি মামলায় ১২ জন হরিণ শিকারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন ১৫৬ দশমিক ৫ কেজি হরিণের মাংস, পাঁচটি মাথা, আটটি পা, দুটি চামড়া ও দুটি মৃত হরিণ উদ্ধার করা হয়।


সুন্দরবন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মনিরুজ্জামান নাসিম আলী বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে পূর্ব সুন্দরবনে নিবিড় নজরদারি চালানোর ফলে বন অপরাধ কমেছে। তবে এ সাফল্য ধরে রাখতে বনরক্ষীদের শূন্য পদ পূরণ, দ্রুতগতির নৌযান ও আরও ড্রোনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জেলে ও বনজীবীদের নৌযানে জিপিএস ট্র্যাকিং চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।


পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগ এখন আগের তুলনায় বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। ফুট পেট্রোলিং, স্মার্ট পেট্রোলিং, বোট পেট্রোলিং, ঝটিকা অভিযান ও ড্রোনের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি চলছে। এতে হরিণ শিকারি ও বিষ প্রয়োগকারী চক্রের তৎপরতা অনেকটাই কমেছে।


তিনি জানান, এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে আরও জোরদার অভিযান পরিচালনা করা হবে।



এমকে/বিএম২৪