কালিয়াকৈরে গ্যাস সংকটে ৩৫ কারখানার উৎপাদন ব্যাহত
সূত্রঃ সংগৃহীত
শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় হরতকীতলা এলাকার নুরু গ্রুপের রাইয়্যান নিট কম্পোজিট লিমিটেডের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কারখানাটির প্রায় ২ হাজার ২০০ শ্রমিককে ছুটি দেওয়া হয়েছে।
তিতাস গ্যাসের স্থানীয় কার্যালয় জানিয়েছে, কালিয়াকৈর ও আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে ৩৫টির বেশি শিল্পকারখানার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
গত বুধবার রাত ৯টার পর থেকে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে হরতকীতলা এলাকায় অবস্থিত রাইয়্যান নিট কম্পোজিট লিমিটেডে কোনো মেশিন চালানো সম্ভব হয়নি। পরে কর্তৃপক্ষ কারখানার উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে শ্রমিকদের ছুটি দেয়।
কারখানাটির জিএম জহিরুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের চাপ এতটাই কমে গেছে যে একটি মেশিনও চালানো যাচ্ছে না। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
চাহিদার অর্ধেকও মিলছে না গ্যাস
তিতাস গ্যাসের কালিয়াকৈর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর ও আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট।
গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে চন্দ্রা, মৌচাক ও কালিয়াকৈরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। কোথাও আংশিক উৎপাদন চললেও অনেক প্রতিষ্ঠানে বয়লার ও উৎপাদনযন্ত্র চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
চাকরি নিয়ে শঙ্কায় শ্রমিকরা
উৎপাদন বন্ধ ও কমে যাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিল্পমালিকদের লোকসানের পাশাপাশি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
শিল্পমালিকদের দাবি, উৎপাদন কমে গেলেও শ্রমিকদের বেতন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল এবং ব্যাংকঋণের কিস্তিসহ নিয়মিত ব্যয় চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন গ্যাস সংকট চললে প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।
এদিকে গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে পরিবহন খাতেও ভোগান্তি বেড়েছে।
জাতীয় সংকটের প্রভাব
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলএনজি সরবরাহ ও জাতীয় গ্যাস গ্রিডে চাপ কমে যাওয়ায় গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পচাপ থেকে কোথাও কোথাও শূন্যচাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
তবে সংকট দীর্ঘায়িত হলে শিল্পকারখানার উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
শিল্পমালিক ও শ্রমিকরা দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ ও চাপ স্বাভাবিক করে বন্ধ ও স্থবির হয়ে পড়া কারখানাগুলো সচল করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়াতে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এমকে/বিএম২৪









