অবৈধ অটোরিকশার চার্জে কালিয়াকৈরে বাড়ছে বিদ্যুৎ সংকট
সূত্রঃ সংগৃহীত
শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলটির বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ নিয়ে গড়ে ওঠা গ্যারেজে প্রতিদিন হাজার হাজার অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে বিদ্যুতের ওপর বাড়ছে বাড়তি চাপ, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ৫৫ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে। প্রতিটি অটোরিকশায় সাধারণত ৪ থেকে ৬টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। এক ঘণ্টায় চার্জ দিতে প্রায় ১ হাজার ১০০ ওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রায় ৮ ঘণ্টা চার্জ দিলে একটি অটোরিকশায় গড়ে ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়।
হিসাব অনুযায়ী, এসব অটোরিকশা চার্জে বছরে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশ। অভিযোগ রয়েছে, এর বড় একটি অংশ বৈধ মিটারের মাধ্যমে ব্যবহার না হয়ে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে নেওয়া হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ বাড়লেও সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব পাচ্ছে না।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, একাধিক গ্যারেজে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নিয়ে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এতে শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় দেশে প্রায় ২০ লাখ অটোরিকশার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবার একটি অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে গ্যারেজে গড়ে ১০০ টাকা নেওয়া হয়। এ হিসাবে দিনে প্রায় ২০ কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়।
অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার ও চার্জ দেওয়ার এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অটোরিকশা আটক বা সড়কে অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে।
তাদের মতে, অবৈধ চার্জিংয়ের কারণে বিদ্যুতের ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, তা কমাতে কার্যকর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা জরুরি। একই সঙ্গে অটোরিকশা চার্জের জন্য বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে সরকার রাজস্ব পাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ কমানো সম্ভব হবে।









