‘মেরে ফেলবে’ বার্তা পাঠানোর পর নিখোঁজ, পাঁচ দিন পর মিলল সোহেলের লাশ

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ এএম
‘মেরে ফেলবে’ বার্তা পাঠানোর পর নিখোঁজ, পাঁচ দিন পর মিলল সোহেলের লাশ

ফাইল ছবি

রবিউল মোল্লা, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি


ঢাকা থেকে লঞ্চে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর বরিশালের হিজলায় নদীর পাড় থেকে সোহেল নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে বোন ও এক বন্ধুকে ‘আমার মনে হয় আমাকে কেউ মেরে ফেলবে’ লিখে বার্তা পাঠিয়েছিলেন তিনি। এ ঘটনায় তাঁর বন্ধু রবিউলকে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।


নিহত সোহেল শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর এলাকার আরপ আলী বেপারীর কান্দি গ্রামের আনোয়ার বেপারীর ছেলে।


পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর বন্ধু রবিউলের বিমানের টিকিট বুকিংয়ের কাজে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় যান সোহেল। কাজ শেষে রাতে তাঁরা ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে তাঁরা কেরানীগঞ্জে বন্ধু তুহিনের বাসায় গিয়েছিলেন।


রাত ১টা ৪১ মিনিটে সোহেল তাঁর বোন ফারিয়াকে এবং এক মিনিট পর বন্ধু তুহিনকে বার্তা পাঠান, ‘আমার মনে হয় আমাকে কেউ মেরে ফেলবে।’ পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পান।


সোহেলের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে বন্ধুর বক্তব্যে অসংগতি


সোহেলের ভাই জুয়েলের দাবি, রবিউল প্রথমে জানিয়েছিলেন সোহেল তাঁর সঙ্গে আছেন। পরে কখনো সখিপুর বাজারে, আবার কখনো সোহেল আগেই বাড়ি চলে গেছেন বলে জানান তিনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সোহেলের সন্ধান না পেয়ে ১৯ অক্টোবর চাঁদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।


রবিউলের ভাষ্য, লঞ্চটি চাঁদপুরের কাছাকাছি পৌঁছালে রাত আনুমানিক ২টার দিকে সোহেল বাথরুমে যাওয়ার জন্য নিচে নামেন। এরপর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম থেকে উঠে সোহেলকে না পেয়ে লঞ্চে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।


পরিবারকে প্রথমে ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়ে রবিউল বলেন, তাঁরা দুশ্চিন্তা করবেন ভেবেই তিনি মিথ্যা বলেছিলেন। তাঁর দাবি, সোহেলের পকেটে তাঁর পাসপোর্ট ও বিমানের টিকিট ছিল। ২৫ অক্টোবর তাঁর ফ্লাইট নির্ধারিত ছিল বলেও জানান রবিউল।


হিজলায় নদীর পাড়ে মিলল মরদেহ


গত ২২ অক্টোবর দুপুরে বরিশালের হিজলা থানা এলাকায় নদীর পাড় থেকে সোহেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়।


সখিপুর থানায় করা জিডির পরিপ্রেক্ষিতে সোহেলের বন্ধু রবিউলকে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


তবে সোহেলের নিখোঁজ হওয়া ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা।