সুন্দরবনের কেওড়ায় উপকূলের নতুন সম্ভাবনা
সূত্রঃ সংগৃহীত
সুন্দরবন প্রতিনিধি
সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ কেওড়া এখন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য বাড়তি আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। জোয়ার-ভাটার স্রোতে ভেসে আসা কেওড়া ফল নদীর চর ও কাদামাটিতে স্বাভাবিকভাবে অঙ্কুরিত হয়ে গড়ে তুলছে বিস্তীর্ণ কেওড়াবন। আর সেখান থেকেই ফল সংগ্রহ করে স্থানীয়রা বাজারে বিক্রি করছেন।
এ বছর সুন্দরবনের নদী-খাল, মোহনা ও চরাঞ্চলে কেওড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি চিংড়ি, মসুর ডাল, আচার ও চাটনি তৈরিতে এ ফলের ব্যবহার রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে এর বড় অংশই বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
ম্যানগ্রোভ পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ বৃক্ষ কেওড়া শুধু মানুষের খাদ্য নয়, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মধু উৎপাদনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেওড়া ফুল মৌমাছির অন্যতম খাদ্য উৎস হওয়ায় সুন্দরবনের মধু উৎপাদনেও এর ভূমিকা রয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. শেখ জুলফিকার হোসেনের গবেষণায় কেওড়া ফলে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে এর চিকিৎসাগত গুণাগুণ নিশ্চিত করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেওড়া থেকে আচার, চাটনি, পানীয়সহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি করা সম্ভব। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ফল সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা গড়ে উঠলে উপকূলের মানুষের আয় বাড়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং উপকূলীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কেওড়ার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমকে/বিএম২৪









