চুরির মামলায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
সূত্রঃ সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
অফিসের মালামাল, গ্যাস সিলিন্ডার ও ট্রাঙ্ক সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আশ্রাফুল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) রেজওয়ানা আক্তার জাহান বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধানমন্ডি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব।
পুলিশ জানায়, ট্রাস্টের বিভিন্ন মালামাল অনুমতি ছাড়া সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আশ্রাফুলকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন ধানমন্ডি মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আশ্রাফুল মামুন আগে ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) পদে কর্মরত ছিলেন। গত ৬ আগস্ট তাকে সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে বদলি করা হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অফিসের বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৮ আগস্ট সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আশ্রাফুল আউটসোর্সিংয়ের গাড়িচালক মো. আবুল কালামকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাস্টের গাড়িতে নিজের ঠিকানায় যান। পরে দুপুরে ধানমন্ডি ১২/এ রোডের ট্রাস্ট কার্যালয়ে ফিরে পৌনে ৩টার দিকে চারটি বড় বস্তা ও কয়েকটি ছোট ব্যাগে মালামাল গাড়িতে তুলে অফিস ত্যাগ করেন।
এ ছাড়া ১১ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ময়মনসিংহ বোর্ডের একটি ট্রাঙ্ক অফিসের করিডোর থেকে ট্রাস্টের চালক শামীম মৃধার মাধ্যমে গাড়িতে করে নিজের বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি আনসার সদস্য মনিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ২৫ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে একটি ছোট কাভার্ড ভ্যানে করে ট্রাস্টের চারটি গ্যাস সিলিন্ডার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা চালককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, আশ্রাফুলের নির্দেশে সিলিন্ডারগুলো গাবতলী নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে আশ্রাফুলের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৫ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত দফায় দফায় ট্রাস্টের মালামাল ও গ্যাস সিলিন্ডার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসার পর গত ১৩ আগস্ট প্রথমে ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও আলোচনার পর বৃহস্পতিবার রাতে সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।








