সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা কারখানায় বিষক্রিয়ায় নিহত বেড়ে ৮

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
সীতাকুণ্ডের জাহাজভাঙা কারখানায় বিষক্রিয়ায় নিহত বেড়ে ৮

সূত্রঃ সংগৃহীত

এম হেলাল উদ্দিন নিরব,

বিশেষ প্রতিনিধি


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংক থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন।


শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিল নামের জাহাজভাঙা কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহত আটজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন—সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তাঁদের সবাই ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পান তাঁরা। পরে সেখানে গিয়ে কয়েকজন অসুস্থ ব্যক্তিকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিতে দেখেন। কিছুক্ষণ পর স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতরে কয়েকজনের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে কারখানায় ঢুকে ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


গ্যাসের তীব্রতায় আশপাশের এলাকাতেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জেলেরা জানান, সাগর থেকে ফেরার সময় কারখানার পাশের খালে ঢুকতে পারেননি তাঁরা। গ্যাসের গন্ধ এতটাই তীব্র ছিল যে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে।


কারখানার মালিকের প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন জানান, জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী অসতর্কতার কারণে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তিনি কারখানা থেকে জানতে পেরেছেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত জানার কথা বলেন তিনি।


চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, ওই কারখানা থেকে দুই দফায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অপর একজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে আরও দুজনের মরদেহ রয়েছে।


ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। দুর্ঘটনাস্থলে যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল, সেটি আগে এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে ট্যাংক সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করা প্রয়োজন।


তিনি আরও জানান, ট্যাংকের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর গ্যাস জমে থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করেই জাহাজ কাটার কাজ করায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থাও যথেষ্ট ছিল না।



এমকে/বিএম২৪