কাঁচামরিচে স্বস্তি, সবজির দামে আগুন

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
কাঁচামরিচে স্বস্তি, সবজির দামে আগুন

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরছে না সাধারণ মানুষের। বর্ষা মৌসুমে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লেও তার প্রভাব পড়েনি খুচরা দামে। রাজধানীর মিরপুর ৬ নম্বর কাঁচাবাজারে শুক্রবার দেখা গেছে, আলু ও পেঁপেসহ কয়েকটি পণ্য ছাড়া অধিকাংশ সবজিই কেজিপ্রতি ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কিছু সবজির দাম উঠেছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।


বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। একই দামে পাওয়া যাচ্ছে টমেটোও। বরবটি, ঝিঙে, করলা, চিচিঙ্গা ও শসার দাম ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। পটোল ১২০ টাকা এবং ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে। তুলনামূলক কম দামে মিলছে আলু ও পেঁপে।


তবে কাঁচামরিচের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম ৪০০ টাকার বেশি হলেও বর্তমানে আমদানি করা কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে। বিক্রেতারা জানান, দেশি কাঁচামরিচের সরবরাহ এখনো কম।


এক ক্রেতা বলেন, কাঁচামরিচের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও অন্যান্য সবজির চড়া দামে সেই স্বস্তি ম্লান হয়ে যাচ্ছে। আয় বাড়ার তুলনায় দৈনন্দিন ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় সংসারের খরচ সামলাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।


সবজির পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও প্রায় অপরিবর্তিত। বাজারে পেঁয়াজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, রসুন ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং আদা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


ডিমের দামও রয়েছে উচ্চ পর্যায়ে। মান ও ধরনভেদে প্রতি ডজন ডিম ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছু দোকানে ডজনপ্রতি ১৬০ টাকা পর্যন্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। ফলে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ডিমের মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী আমিষও এখন বাড়তি ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। বড় রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে। ছোট রুইয়ের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। অন্যান্য মাছের দামও নাগালের বাইরে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।


ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি দেখা যায় না। তাদের দাবি, মিরপুর ৬ নম্বর কাঁচাবাজারে সারা বছর নিয়মিত নজরদারি থাকলে অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। মাঝে মধ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা সিটি করপোরেশনের অভিযান হলেও তা স্থায়ী প্রভাব ফেলছে না বলে অভিযোগ তাদের।


বিক্রেতাদের ভাষ্য, পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে। তবে ক্রেতাদের প্রশ্ন, বর্ষায় সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও যদি দাম না কমে, তাহলে সেই সুবিধা সাধারণ মানুষ কবে পাবে?


নিত্যপণ্যের এই উচ্চমূল্যে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। বাজারে সবজি, ডিম ও মাছসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে নিয়মিত বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।



এমকে/বিএম২৪