বান্দরবানে ৫ হাজার মানুষের পানির সংকটের অবসান

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
বান্দরবানে ৫ হাজার মানুষের পানির সংকটের অবসান

সূত্রঃ সংগৃহীত

মো. ওমর ফারুক; বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি


দীর্ঘদিনের নিরাপদ পানির সংকট কাটিয়ে সুপেয় পানির আওতায় আসতে যাচ্ছে বান্দরবান সদর উপজেলার দুই গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। কুহালং ইউনিয়নের চেমিডুলু পাড়া ও রাজবিলা ইউনিয়নের ইসলামপুরে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য গভীর নলকূপ ও পানির হাউজ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে নিরাপদ পানি।


দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এসব অঞ্চলে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা বরাবরই কঠিন। পাহাড়ের ঢালে গড়ে ওঠা বসতিগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি-ছড়ার পানি কমে গেলে দূরের উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন নারী ও শিশুরা। প্রতিদিন কলসি, বালতি কিংবা বিভিন্ন পাত্র নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয় তাঁদের।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চেমিডুলু পাড়া ও ইসলামপুরে দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। ঝিরি শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাঁদের।


পানির সংকট নিরসনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় দুই এলাকায় ১ হাজার ২০০ ফুট গভীরতার দুটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার দুটি পানির হাউজ।


জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় এ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। শিবলী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।


সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবিলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুরে প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। সেখানে ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে পানির হাউজ নির্মাণ করা হচ্ছে। একইভাবে কুহালং ইউনিয়নের চেমিডুলু পাড়াতেও প্রকল্পের কাজ চলছে।


প্রকল্পের আওতায় নলকূপ থেকে উত্তোলন করা পানি পানির হাউজে সংরক্ষণ করা হবে। পরে পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হবে।


ইসলামপুরের বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, ইসলামপুর এলাকায় পাঁচটি গ্রাম রয়েছে। গ্রীষ্মকালে পানির জন্য অনেক দূরে যেতে হয়। প্রতিদিন পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পানির হাউজ নির্মাণের কাজ শেষ হলে এ সমস্যা আর থাকবে না বলে আশা করছেন তিনি।


চেমিডুলু পাড়ার বাসিন্দা উচপ্রু বলেন, সেখানে প্রায় ৩০০ পরিবার বসবাস করে। শুষ্ক মৌসুমে কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে পানি নিতে হতো। নতুন পানির হাউজের কাজ শেষ হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করেন তিনি।


প্রকল্পটির তদারকিতে থাকা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দুই গ্রামে ১ হাজার ২০০ ফুট গভীরতার দুটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসীর পানির কষ্ট অনেকটাই কমে যাবে।


জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, দুই গ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। শুষ্ক মৌসুমে এসব এলাকায় পানির সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় দুটি ৪০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার পানির হাউজ নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে পানির দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



এমকে/বিএম২৪