গ্যাসের সংকটে কালিয়াকৈরে পরিবহন বিপর্যয়

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
গ্যাসের সংকটে কালিয়াকৈরে পরিবহন বিপর্যয়

সূত্রঃ সংগৃহীত

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি



গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাসসংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিএনজিচালিত পরিবহন ব্যবস্থা। অধিকাংশ সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকায় এবং চালু থাকা কয়েকটি পাম্পেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। মাত্র ৬০ থেকে ১৬০ টাকার গ্যাস নিতে গিয়ে তাদের পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় নষ্ট হচ্ছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড, সফিপুর, চন্দ্রা, মৌচাক ও মির্জাপুর এলাকার বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, গ্যাসের জন্য গাড়ির দীর্ঘ সারি। হাতে গোনা কয়েকটি পাম্প চালু থাকলেও সেখানে গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম। ফলে পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে অনেক চালককে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

চন্দ্রা এলাকার রেন্ট-এ-কার চালক সোহেল রানা বলেন, ভোরে গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত গ্যাস পাননি। কম চাপের কারণে পাম্প চালু হওয়ার অপেক্ষাতেই দীর্ঘ সময় কেটে যাচ্ছে। পেট্রোল বা অকটেন দিয়ে গাড়ি চালালে জ্বালানি, জমা ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে আয় থাকে না বলেও জানান তিনি।

মৌচাকের এক পাম্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অটোরিকশাচালক সানাউল্লাহ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। সেই গ্যাস অল্প সময়েই শেষ হয়ে যাওয়ার পর আবার আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ১২০ টাকার গ্যাস নিতে হয়েছে। ১৫ বছরের পেশাগত জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হননি বলে জানান তিনি।

কালিয়াকৈরের সিএনজি চালক আবুল হোসেন ও আনিছুর রহমানও একই দুর্ভোগের কথা জানান। তাঁদের ভাষ্য, চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ১০০ টাকার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। সেই গ্যাস দিয়ে ২০০ টাকার ভাড়া খাটার পরই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়তে হবে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।

একটি পাম্পের বিক্রয়কর্মী জানান, গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। সকালে সামান্য সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হলেও দুপুরের দিকে অনেক সময় পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সফিপুরের একটি পাম্পের কর্মকর্তা জানান, চালকদের অনুরোধে কম চাপের মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

গ্যাসসংকটের কারণে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় সড়কে সিএনজি ও স্থানীয় পরিবহনের সংখ্যাও কমে গেছে। এর সুযোগে অনেক রুটে ভাড়া বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। ২০ টাকার নিয়মিত ভাড়া এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, চাকরিজীবী ও পথচারীরা।



এমকে/বিএম২৪