রামেক হাসপাতালে বাবাকে আইসিইউতে রেখে লাফ দিয়ে ছেলের আত্মহত্যা

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
রামেক হাসপাতালে বাবাকে আইসিইউতে রেখে লাফ দিয়ে ছেলের আত্মহত্যা

সূত্রঃ সংগৃহীত

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী ব্যুরো প্রতিনিধি


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন বাবাকে রেখে হাসপাতালের মিডল ব্লকের পাঁচতলা থেকে লাফ দিয়ে বিমল (৩৫) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে আনুমানিক ২টার দিকে রামেক হাসপাতালের মিডিল ব্লক ৫তালার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সামনে  এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রাথমিকভাবে নথিভুক্ত করে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। তবে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত বিমল নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবা সুখ চন্দ্র গত তিন দিন ধরে রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিমলের স্ত্রী এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আত্মহত্যার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিমলের স্ত্রী পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং মাঝে মাঝে বাড়িতেও আত্মহত্যার মতো চেষ্টা করতেন। পারিবারিক চাপ থেকেও এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেছেন।

ঘটনার ১দিন আগে বিমল বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে গিয়ে আর্থিকভাবে চাপে ছিলেন বলে দাবি করেছেন হাসপাতালে থাকা কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজন।

ঘটনার আগের দিনও বাবার চিকিৎসার জন্য অর্থের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিমলকে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।

হাসপাতালে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিমল ছিলেন পরিবারের ছোট ছেলে। তাঁর অসুস্থ বাবা তাঁর কাছেই থাকতেন এবং বাবার দেখাশোনার দায়িত্বও তিনি পালন করতেন।  বাবার দেখাশোনা নিয়ে বিমলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর মনোমালিন্য চলছিল। এ কারণে তিনি মানসিক চাপেও ছিলেন।

ঘটনার পর বিমলের হাতে একটি চিরকুট দেখা গিয়েছিল বলে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেছেন। তবে ওই চিরকুটে কী লেখা ছিল, তা সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেননি।

চিরকুটটি পুলিশ উদ্ধার করেছে কি না কিংবা এতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য ছিল কি না—এ বিষয়েও এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য মধ্যরাতে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে তথ্য ও ভিডিও সংগ্রহ করতে গিয়ে হাসপাতালের আনসার সদস্যদের বাধার মুখে পড়েন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সাংবাদিকদের দাবি, রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শামীমের সঙ্গে যোগাযোগের পর আনসার সদস্যদের মাধ্যমে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলা হয় এবং ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে আনসার সদস্যরা ধারণ করা ভিডিও ও ছবি মুছে দেওয়া হয়।

এদিন সকালে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শামীম বলেন, হাসপাতালের মিডল ব্লকের পাঁচতলা থেকে বিমল নামের এক যুবক লাফ দিয়ে মারা গেছেন। তাঁর বাবা সুখ চন্দ্র তিন দিন ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি জানান, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা—তা যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে। হাসপাতালের ভেতরে এমন ঘটনা ঘটায় কর্তৃপক্ষও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

একই সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর দেওয়া মানসিক অসুস্থতা ও আগের আত্মহত্যার চেষ্টার তথ্যের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন।

বাবার চিকিৎসার ব্যয়, কথিত আর্থিক সংকট ও পারিবারিক চাপের সঙ্গে বিমলের আত্মহত্যার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ছিল কি না, তাও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্যে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচিত হলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, কথিত চিরকুট এবং পুলিশের তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।



এমকে/বিএম২৪