জ্বালানি সংকটের মধ্যেও জাতীয় গ্রিডে স্বস্তি দিচ্ছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
জ্বালানি সংকটের মধ্যেও জাতীয় গ্রিডে স্বস্তি দিচ্ছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র

সূত্রঃ সংগৃহীত

প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি: 


দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বাগেরহাটের রামপাল মৈত্রী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রেখে কেন্দ্রটি নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় চলমান সংকট মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ২৫ দিনে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৬৪ কোটি ৩৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার এ কেন্দ্রটি ওই সময়ে গড়ে ১ হাজার ৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছে।


এর আগে জুন মাসে কেন্দ্রটি উৎপাদন করেছে প্রায় ৮২ কোটি ৭৩ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ। ওই মাসে গড় উৎপাদন ছিল ১ হাজার ১৪৯ মেগাওয়াট। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রামপাল কেন্দ্রের ধারাবাহিক সক্ষমতা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হচ্ছে।


রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপব্যবস্থাপক খাঁন নোমান শিবলী জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনায় দেশীয় প্রকৌশলীদের দক্ষতাও এখন বিশেষভাবে দৃশ্যমান। মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম জানান, বর্তমানে বাংলাদেশি প্রকৌশলীরাই কেন্দ্রটির অধিকাংশ কারিগরি ও অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ভারতীয় প্রকৌশলীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশীয় প্রকৌশলীরা দায়িত্ব পালন করছেন। ভারতীয় প্রকৌশলীরা বর্তমানে মূলত পরামর্শক হিসেবে যুক্ত আছেন।


কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পূজারী জানান, জাতীয় গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশগত মানদণ্ড বজায় রেখেই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ নির্বিঘ্ন রাখা গেলে রামপাল কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। এতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি শিল্প ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা মিলবে।



এমকে/বিএম২৪