বড়কুঠি ঘাটে অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের অভিযোগ, প্রতিবাদে জেলেদের বাধা ও হুমকি

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
বড়কুঠি ঘাটে অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের অভিযোগ, প্রতিবাদে জেলেদের বাধা ও হুমকি

সূত্রঃ সংগৃহীত

রাজশাহী ব্যুরো


রাজশাহী নগরীর বড়কুঠি ঘাটে নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের অভিযোগ করেছেন পদ্মার চরাঞ্চলের জেলেরা। অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিলে ইজারাদারের লোকজন তাঁদের বাধা ও হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চর খানপুর ও চর মাজারদিয়ার প্রায় ৫০ জন জেলে বড়কুঠি ঘাটে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেন। তবে মানববন্ধন শুরুর আগেই ইজারাদারের লোকজন তাঁদের বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


জেলেদের অভিযোগ, পদ্মা নদীতে মাছের সংকট চলছে। ফলে দীর্ঘ সময় নদীতে অবস্থান করেও তাঁরা অল্প পরিমাণ মাছ নিয়ে ঘাটে ফেরেন। কিন্তু ঘাটে আসার পর আধা কেজি থেকে এক-দুই কেজি মাছের ব্যাগ বা থলেপ্রতি ২০ টাকা এবং যাত্রীদের কাছ থেকে আরও ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে একজন জেলেকে ৩০ টাকা দিতে হচ্ছে।


জেলেদের দাবি, ঘাটে টাঙানো মাশুলের তালিকায় মাছের ব্যাগ বা থলের জন্য আলাদা কোনো মাশুলের উল্লেখ নেই। এরপরও তাঁদের কাছ থেকে এ অর্থ আদায় করা হচ্ছে।


চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, তালিকায় নির্ধারিত হারের চেয়ে বিভিন্ন পণ্য ও যাত্রী পারাপারে কয়েক গুণ বেশি মাশুল নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষের পারাপারে ৩ টাকার পরিবর্তে ১০ টাকা, গবাদিপশুতে ৩০ টাকার পরিবর্তে ৫০০ টাকা, এক বস্তা পণ্যে ৫ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা এবং মোটরসাইকেলে ৭ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া টিন, সেলাই মেশিন, ডিজেল ও সার পরিবহনেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন তাঁরা।


স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রমিজ আলম বলেন, নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের অভিযোগ এবং প্রতিবাদকারীদের হুমকি দেওয়ার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


তবে ঘাটের ইজারা আদায়ের প্রতিনিধি সেরাজুল ইসলাম (সেরালী) অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘাটে প্রায় ১০ বছর আগের মাশুলের তালিকা এখনো ঝুলছে। এর মধ্যে দ্রব্যমূল্য ও অন্যান্য ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নতুন মাশুলের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।


সেরাজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান ইজারার সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন ও স্পষ্ট মাশুল নির্ধারণ করা হলে এ নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের অবসান হতে পারে।


এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালে মো. নুর-ঈ সাইদ বলেন, নির্ধারিত তালিকার বাইরে অতিরিক্ত মাশুল আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এমকে/বিডিমেইল২৪