মোহাম্মদপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই সফল হওয়ার আশা এসআরবির

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম
মোহাম্মদপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই সফল হওয়ার আশা এসআরবির

সূত্রঃ সংগৃহীত

সিজান হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার


রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খুব শিগগিরই এলাকার অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদর দপ্তরের উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।


শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে এসআরবির (সাবেক র‍্যাব) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, মোহাম্মদপুরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কোনো এলাকার অপরাধ পরিস্থিতি একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে যেসব এলাকায় অপরাধের মাত্রা বেশি, সেসব স্থানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।


তিনি জানান, মোহাম্মদপুরে এসআরবি সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অভিযান পরিচালনায় কর্মকর্তার সংখ্যা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার এবং সাইবার মনিটরিং বাড়ানো হয়েছে। অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


এসআরবির এই কর্মকর্তা বলেন, মোহাম্মদপুরে প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে এসআরবি-২-এর পক্ষ থেকেও বেশ কিছু সাফল্য অর্জিত হয়েছে। নিয়মিতভাবে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হচ্ছে।


অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কিছুটা সময় দিতে হবে। পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে সহযোগিতা করা হলে খুব শিগগিরই মোহাম্মদপুরের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।


প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়েও কথা বলেন এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।


তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও এসআরবির অভিযানে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।


অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান আরও কার্যকর করতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেলেও পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।


ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কারও কাছে লুণ্ঠিত অস্ত্র থাকলেই তিনি অপরাধের সঙ্গে জড়িত—এমনটি নয়। কোনো পরিস্থিতিতে কেউ অস্ত্র নিয়ে যেতে পারেন এবং পরে কীভাবে সেটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করবেন, তা নিয়ে অনেকে দ্বিধায় থাকতে পারেন।


এ কারণে অস্ত্রের অবস্থান সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কোথায় পিস্তল, রাইফেল, ম্যাগাজিন বা গুলি রয়েছে—এ ধরনের তথ্য জানানো হলে বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করতে পারবেন বলে জানান তিনি।


তিনি আরও বলেন, অস্ত্রের তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করলে সরকারি উদ্যোগের আওতায় তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে। একই সঙ্গে তথ্যদাতাদের আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হবে না বলেও জানান এসআরবির এই কর্মকর্তা।


এমকে/বিএম২৪