দৃশ্যমান হচ্ছে সারিয়াকান্দি নৌবন্দর, উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী
সূত্রঃ সংগৃহীত
বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে বহুল প্রত্যাশিত নৌবন্দর। উপজেলার কালিতলা নৌঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) একটি পল্টুন স্থাপন করা হয়েছে। পল্টুনে ‘সারিয়াকান্দি নৌবন্দর’ লেখা থাকায় নদীপাড়ের মানুষসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি সরকার বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলাকে নৌবন্দর ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে। বর্তমানে নৌবন্দরের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
প্রাচীনকাল থেকেই সারিয়াকান্দি-মাদারগঞ্জ নৌরুট বগুড়াসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ পথে জামালপুর হয়ে ঢাকার সঙ্গেও যোগাযোগের দূরত্ব কম। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ছোট নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে যমুনা নদী পারাপার করেন।
তবে এসব নৌযানে পর্যাপ্ত যাত্রীছাউনি না থাকায় প্রচণ্ড রোদ ও বৃষ্টিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কয়েক বছর আগে এ নৌরুটে বিআইডব্লিউটিএ সি-ট্রাক সার্ভিস চালু করলেও যমুনার নাব্য সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, সারিয়াকান্দিতে যমুনার পলিতে প্রতিবছর বিশাল কৃষিজমি তৈরি হচ্ছে। এসব জমিতে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য পরিবহনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ন্যায্যমূল্যে বাজারজাত করতে পারেন না কৃষকেরা। নৌবন্দর চালু হলে কৃষিপণ্য সহজে পরিবহন ও বাজারজাত করার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
গেজেট অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের দিঘাপাড়া, কালিতলা, জামথল, মথুরাপাড়া, মূলবাড়ী ও শোনপচা নৌঘাট এবং ধুনট উপজেলার চন্দনবাইশা ও শহরাবাড়ী নৌঘাট নৌবন্দরের আওতাভুক্ত হবে।
নৌবন্দর চালু হলে বগুড়া ও জামালপুরের মধ্যে যাতায়াতের দূরত্বও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। সড়কপথে বগুড়া থেকে জামালপুরের দূরত্ব প্রায় ১৭৩ কিলোমিটার। অন্যদিকে নৌপথে বগুড়া থেকে সারিয়াকান্দি ২২ কিলোমিটার, সেখান থেকে মাদারগঞ্জের জামথল ঘাট ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং জামথল থেকে জামালপুর ৩২ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে নৌপথে দূরত্ব প্রায় ৫৯ কিলোমিটার—সড়কপথের তুলনায় ১১৪ কিলোমিটার কম।
সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, নৌবন্দর এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এটি বাস্তবায়িত হলে ছোট নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে নৌযান চলাচলের সমস্যাও দূর হবে বলে আশা করছেন তিনি।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, নৌবন্দরের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। শিগগিরই সারিয়াকান্দির নৌঘাটে বড় যাত্রীবাহী ও মালবাহী নৌযান ভিড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।









