ঢাবিতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ, বুধবার তদন্ত প্রতিবেদন
সূত্রঃ সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত রোববার (১৬ আগস্ট) এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে হল কার্যালয়ে কর্মচারীদের সহায়তায় মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে প্রভোস্টের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হলে বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তদন্তের অংশ হিসেবে প্রক্টরিয়াল টিম শিক্ষার্থীদের লাগানো তালা খুলে হলের প্রশাসনিক কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজ সরিয়ে ফেলা বা বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদ।
পরিস্থিতি নিয়ে বিকেল ৫টার দিকে উপাচার্যের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ডাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা এবং অভিযোগকারী শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, প্রভোস্ট ওই শিক্ষার্থীকে একাধিকবার নির্যাতন করেছেন এবং হলের কর্মচারীদের মাধ্যমে জোর করে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। এমনকি শিক্ষার্থীর অসুস্থ মাকে ফোন করে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
সাদিক কায়েম জানান, বৈঠকে উপাচার্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন। একই সঙ্গে মঙ্গলবার রাত ৯টার মধ্যে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানো এবং ১৯ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
হল সংসদের ভিপি আবু নায়েম বলেন, হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের তথ্য যথাযথভাবে উপাচার্যের কাছে না পৌঁছানোয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, উপাচার্যের নির্দেশে বিতর্কিত সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত পেনড্রাইভটি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সিলগালা করে তাঁর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পরে প্রক্টর ইসরাফিল রতন ভুক্তভোগী ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ফুটেজ পর্যালোচনার আশ্বাস দেন।
প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হবে বলে তিনি আশা করছেন।
এদিকে অভিযুক্ত প্রভোস্টকে অপসারণ ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হলের প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ডাকসু ও হল সংসদের নেতারা। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের নিপীড়ন বা সন্ত্রাসের অভিযোগ প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা অতীতে সাংবাদিক ও ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।








