তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ আমতলীর জনজীবন

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ আমতলীর জনজীবন

সূত্রঃ ফাইল ছবি

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি



বরগুনায় আমতলীতে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গত ১৫ দিন ধরে বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকট চলছে। দিনে গড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। বাকি সময় দফায় দফায় লোডশেডিং থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

আমতলী পৌর শহরের বাসিন্দা মো. রিপন মুন্সি বলেন, ‘বিদ্যুৎ আসবে, তারপর যাবে—এমন নয়; আসেই না। দিনে দু-একবার এলেও ১০-১৫ মিনিটের বেশি থাকে না। বিদ্যুতের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে।’

আমতলী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের এজিএম মো. কাওসার আহমেদ বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। উপজেলায় বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায় ১৩ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ৮ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলায় প্রায় ৬৭ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় রয়েছে। এসব গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় গত ১৫ দিন ধরে তীব্র লোডশেডিং চলছে।

গৃহিণী রুমা আক্তার বলেন, দিনভর বিদ্যুৎ থাকে না। কিছুক্ষণ পরপর আসে আর যায়। রাতে কিছু সময় বিদ্যুৎ থাকলেও চলে গেলে আর সহজে আসে না। এ পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

স্কুলছাত্রী তানজিলা আক্তার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে এখন হারিকেনের আলোয় পড়তে হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, বিদ্যুতের অভাবে বরফ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মাছ সংরক্ষণ ও বিক্রি করতে চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

আমতলীর ফাতেমা আইস ফ্যাক্টরির মালিক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ সংকটে বরফ উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং মাছ ব্যবসায়ীদেরও প্রয়োজনীয় বরফ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।




এমকে/বিএম২৪