শতভাগ ফেলের দায় সিসি ক্যামেরার ওপর চাপালেন শিক্ষক

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
শতভাগ ফেলের দায় সিসি ক্যামেরার ওপর চাপালেন শিক্ষক

সূত্রঃ সংগৃহীত

জেলা প্রতিনিধি



রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টির এক শিক্ষক এই ফলাফলের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে থাকা সিসি ক্যামেরার ভয়কে দায়ী করেছেন। আরেক শিক্ষক এর সঙ্গে অভিভাবকদের অসচেতনতাকেও কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৫৪ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ২৯ জন পাস করেছিল। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে এবার ১৮ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের পাসের হার নেমে এসেছে শূন্যে।


এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পাঠদান ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে নয়জন শিক্ষক ও ছয়জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। এত শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও সব পরীক্ষার্থী ফেল করায় বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগমকে পাওয়া যায়নি। অফিসকক্ষে কয়েকজন শিক্ষককে দেখা যায়। এ সময় শ্রেণিকক্ষগুলোতে ১৫ থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।


বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, এবারের শিক্ষার্থীরা কিছুটা ভীতু ছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকায় তারা ভয় পেয়েছিল। তাঁর দাবি, এ কারণেই শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো করতে পারেনি। আগামীতে ফলাফল ভালো হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।


আরেক সহকারী শিক্ষক মুশফিকুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। এর সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এসব কারণেই এবার এমন ফল হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এর আগে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।


তবে শিক্ষকদের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন স্থানীয়রা। স্থানীয় যুবক সবুজ মিয়া বলেন, নয়জন শিক্ষক থাকার পরও ১৮ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস না করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাঠদানে কোনো ঘাটতি বা শিক্ষকদের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। কারও অবহেলার কারণে বিদ্যালয়টি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও নজর দেওয়ার দাবি জানান তিনি।


পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হবে এবং বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।




এমকে/বিএম২৪