তিস্তার ঢলে সড়ক ধস, দুর্ভোগে ২ হাজার পরিবার

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
তিস্তার ঢলে সড়ক ধস, দুর্ভোগে ২ হাজার পরিবার

সূত্রঃ সংগৃহীত

জেলা প্রতিনিধি


উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ছয়টি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানির তোড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে যাওয়ায় প্রায় দুই হাজার পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর পানি কমে বিপৎসীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।


স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে দহগ্রাম ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।


এলাকাবাসীর ভাষ্য, উজানের ঢলে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর পানি দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত বেড়ে যায়। এতে প্রায় ৫০০ একর আমন ধানের জমি পানির নিচে চলে যায়। তবে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।


বন্যার পানি সরে যাওয়ার সময় দহগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সৃষ্টিয়ারপাড় এলাকায় সাকোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৃষ্টিয়ারপাড় থেকে আঙ্গরপোতা ও পাটগ্রামগামী আঞ্চলিক পাকা সড়কের প্রায় ২০ ফুট অংশ ধসে গিয়ে প্রায় ১০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।


এর ফলে ডাঙ্গাপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, প্রধানপাড়া, ওলেরপাড়া ও সাকোয়াপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শিশু, বৃদ্ধ ও গৃহপালিত পশু নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল মিয়া বলেন, সকালে গিয়ে দেখা যায় সড়কের একটি অংশ ধসে গেছে। দ্রুত সংস্কার না হলে স্বাভাবিকভাবে চলাচল সম্ভব হবে না এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়বে।


পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন জানান, বিষয়টি জানার পর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত সড়ক সংস্কারের আশ্বাস পাওয়া গেছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।



এমকে/বিএম২৪