ঠাকুরগাঁও সীমান্তে এক যুগে বিএসএফের গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশি
সূত্রঃ সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন সীমান্তে গত এক যুগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)–এর গুলিতে অন্তত ২৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সর্বশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত তিনজনের মধ্যে আসাদুল হক (৩৮) ও মোস্তাক চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতে মারা যান। অপর আহত শ্রী উদা রায়কে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আটক করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় কৃষিকাজ, ঘাস কাটা, মাছ ধরা কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক কাজেও তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। বিশেষ করে সীমান্তের কাছাকাছি গেলে বিএসএফের গুলির আশঙ্কায় অনেকে সতর্ক থাকেন।
২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর, রাণীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গীসহ বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে একাধিক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় কখনো সীমান্তের কাছ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আবার কখনো ভারতের অভ্যন্তর থেকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বিজিবি ও বিএসএফের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চোরাচালান বা অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আখলাকুর রহমান বলেন, সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা প্রাণহানির অন্যতম কারণ। সীমান্তবাসীকে সচেতন করতে স্থানীয় ইমাম, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সীমান্তে প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিজিবি কাজ করছে।
এদিকে সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইড অফিস জানিয়েছে, সীমান্তে হতাহতের ঘটনায় কোনো ভুক্তভোগী পরিবার আইনি সহায়তা চাইলে বিনা খরচে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
এমকে/বিডিমেইল২৪









