ষষ্ঠ স্ত্রী থাকার পরও ফের নারীসহ আটক সাবেক ওসি মাহবুব

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম
ষষ্ঠ স্ত্রী থাকার পরও ফের নারীসহ আটক সাবেক ওসি মাহবুব

সূত্রঃ সংগৃহীত

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী ব্যুরো


রাজশাহী মহানগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় এক নারীর সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে অবস্থানকালে সাবেক ওসি মো. মাহবুব হোসেনকে আটক করেছে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ। এ সময় তাঁর সঙ্গে মোছা. সানজিদা আলম মৌ (২৫) নামের এক নারীও ছিলেন। এ ঘটনায় মাহবুব হোসেনের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করা মোছা. আন্নি আক্তার (৩৪) থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।


শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন পদ্মা আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর রোডের একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে তাঁদের আটক করা হয়।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাহবুব হোসেন বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্স ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে কর্মরত। অভিযোগ রয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে কোনো ধরনের ছুটি না নিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে রাজশাহীতে এসে ওই ফ্ল্যাটে সানজিদা আলম মৌয়ের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন তিনি।


শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে মাহবুব হোসেনের ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করা আন্নি আক্তার ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে তাঁদের অবস্থানের বিষয়টি জানতে পারেন। দরজায় ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে দরজা না খোলায় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দরজা খোলা হয়নি। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে দরজা ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। পরে ভেতর থেকে মাহবুব হোসেন ও সানজিদা আলম মৌকে বের করে আনা হয়।


আটক হওয়া নারীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন মাহবুব হোসেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে আন্নি আক্তারকে চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় আন্নি আক্তার চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।


মাহবুব হোসেন এর আগে ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে চন্দ্রিমা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে তিনি নওগাঁ জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে সিরাজগঞ্জ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়।


এদিকে নারীসহ ফ্ল্যাটে অবস্থানের ঘটনায় মাহবুব হোসেনকে আটক এবং তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।


এ ঘটনায় চন্দ্রিমা থানা পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করছে।


এমকে/বিডিমেইল২৪