সাভারে জাবি শিক্ষার্থীকে অপহরণ-ছিনতাইয়ের অভিযোগ, ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি
সূত্রঃ সংগৃহীত
জাবি প্রতিনিধি
সাভারের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় জরুরি ফোন করার কথা বলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নিয়ে তাকে অচেতন করে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে পলাশবাড়ী এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে মারধর করে বিকাশে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ৪৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রাশিদুল ইসলাম রুশোর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, টিউশনে যাওয়ার পথে সাভারের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় এক ব্যক্তি জরুরি ফোন করার কথা বলে তার কাছে মুঠোফোন চান। সরল বিশ্বাসে ফোনটি দিলে ওই ব্যক্তি কিছুটা দূরে সরে যান। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা আরও কয়েকজন ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগ দেন বলে অভিযোগ করেন রুশো।
পরে একটি স্প্রে ব্যবহার করে তাকে অচেতন করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। এরপর তাকে পলাশবাড়ী এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চড়-থাপ্পড়সহ শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তার মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও হাতঘড়ি নিয়ে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
একপর্যায়ে তার কাছে বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রুশো। পরে এক বন্ধুর কাছ থেকে বিকাশে ৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে রাশিদুল ইসলাম রুশো বলেন, ‘আমার মুঠোফোনটি ফেরত দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে তারা আমাকে হুমকি দেয়। বলে, বেশি করলে আরেক গ্রুপের কাছে পাঠিয়ে দেবে। তখন আরও ঝামেলায় পড়তে হবে।’
এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি ও চক্রের সম্পৃক্ততার আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী। পল্লীবিদ্যুৎ ও আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আবদুছ সাত্তার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা আশুলিয়া থানা পুলিশ ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোকে অবগত করেছি, যেন তারা কার্যক্রম আরও তদারকিতে রাখে।’
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরে আলম সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা অভিযোগ পাইনি। অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট এলাকায় আমাদের সোর্স ও সদস্যদের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’









