কুড়িগ্রামে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শাহজালাল সবুজের দলীয় পদ স্থগিত।
সূত্রঃ ফাইল ছবি
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি। ২/৮/২৬
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহ-সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন।
জানা যায়, “ভিশন এন্টারপ্রাইজ” নামক একটি ডিলারশিপ ব্যবসার কথা বলে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াত ও অঙ্গ সংগঠনের ১০০ জনেরও বেশি সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ নেওয়া হয়। শুরুতে বিনিয়োগকারীদের কিছু দিন লভ্যাংশ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দলিল (ডিড) অনুযায়ী মূল মালিক ৪ জন:
১ ,শাহজালাল সবুজ (সহ-সেক্রেটারি, কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াত)
২ ,রফিকুল ইসলাম (সাবেক প্রচার সম্পাদক)
৩ ,রফিকুল ইসলাম (সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির)
৪ ,ইঞ্জিনিয়ার আ. সালাম সুজা (সাবেক উপজেলা নির্বাচনকারী, দল থেকে বহিষ্কৃত ও পুনর্যোগদানকারী এবং জামায়াত ঘোষিত ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান)
তারা বিগত ০৮ নভেম্বর ২০২০ তারিখে এই প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন বর্তমান জেলা বাইতুল মাল সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, জামায়াতের রোকন জাহিদুল এবং রুহুল আমিন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতারণার বিষয়ে ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা কুড়িগ্রাম জেলা আমীরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের কাছে পাঠানো হলে শাহজালাল সবুজকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে তার রোকনিয়াত ৩ মাসের জন্য মূলতবি করার পাশাপাশি দলীয় পদ স্থগিত করা হয়।
কুড়িগ্রাম জেলা আমীর ভুক্তভোগীদের সাথে আয়োজিত এক আলোচনায় জানান, প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত বাকিদের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে এবং তা সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের যুব বিভাগের সাবেক সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, আমার স্ত্রী শহীদ রফিকের বোন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানে আমার সারাজীবনের তিলে তিলে গচ্ছিত ৮ লক্ষ টাকা গচ্ছিত রেখেছিলেন। তারা যে শহীদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আজ সংগঠন করছে, সেই পরিবারের টাকাই আত্মসাৎ করেছে। আমি দ্রুত আমার টাকা ফেরত চাই।
আরেক ভুক্তভোগী সাদেকুর রহমান বলেন, তারা সংগঠনের পরিচয় কাজে লাগিয়ে ব্যবসার কথা বলে আমাদের টাকা নিয়েছে এবং তা আত্মসাৎ করে এখন নানা টালবাহানা করছে। দ্রুত সমাধান না হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো। টাকা আদায়ে যা যা করা দরকার, তার করবো।
তবে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীলরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ভুক্তভোগীদের সাথে দফায় দফায় আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন বলেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্পূর্ণভাবে ইসলামী রোকনিয়াত ও শরীয়াহর বিধান মেনে পরিচালিত একটি দল। এখানে অন্যায় বা অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
এমকে/বিএম২৪








