কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৪ বছরেও চালু হয়নি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র
সূত্রঃ সংগৃহীত
শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল কৃষকের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের আধুনিক কেন্দ্র। পরিকল্পনা ছিল কৃষক তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন, পচনশীল পণ্য সংরক্ষণ করতে পারবেন এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি হবে কর্মসংস্থান। কিন্তু নির্মাণের চার বছর পেরিয়ে গেলেও কুড়িগ্রামের রাজারহাটের সেই ‘কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র’ চালু হয়নি। ফলে একদিকে কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক, অন্যদিকে অব্যবহৃত পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে কোটি টাকার আধুনিক যন্ত্রপাতি।
রাজারহাট উপজেলা শহরের কাছাকাছি নাজিমখানগামী সড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত কেন্দ্রটির প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। ভেতরে সারি সারি আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও নেই কোনো কর্মচাঞ্চল্য। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় যন্ত্রপাতিতে জং ধরেছে, অনেক সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ প্রকল্পের আওতায় বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) ২০১৮ সালের ১ জুলাই প্রকল্পটির কাজ শুরু করে। প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল কৃষকের উৎপাদিত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কোল্ড চেম্বারে সংরক্ষণ করে বাজারজাত করা এবং এর মাধ্যমে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজারহাটের কেন্দ্রটিতে ধান, গম ও সরিষা ভাঙানোর ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি মসলা, চিপস ও বেকারি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধা এবং দুধ, মাছ ও মাংস সংরক্ষণের জন্য আধুনিক কোল্ড চেম্বার স্থাপন করা হয়।
২০২২-২৩ অর্থবছরে নির্মাণকাজ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রটি আরডিএর কাছে হস্তান্তর করে। এরপর চার বছর পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি।
স্থানীয় চাকির পশার পাঠকপাড়া গ্রামের কৃষক কফিল উদ্দীন ও আমিনুর রহমানসহ কয়েকজন জানান, কেন্দ্রটি চালু হলে উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করে ভালো দামে বিক্রির সুযোগ তৈরি হতো। বিশেষ করে মাছ, দুধ, মাংসসহ পচনশীল পণ্য সংরক্ষণে কৃষকরা উপকৃত হতেন। কিন্তু কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সেই সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
কেন্দ্রটি চালু না হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম শওকত আলম বলেন, ‘এটি আমাদের মন্ত্রণালয়ের হলেও প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত আমার জানা নেই।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সভাপতি তানজিলা তাসনিম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
তবে রংপুর পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) পরিচালক জাহেদুল হক চৌধুরী জানান, জনবল সংকটের কারণে কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ‘আগের নীতিমালা অনুযায়ী আরডিএর নিজস্ব জনবল দিয়ে কেন্দ্রটি পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু তীব্র জনবল সংকটের কারণে তা চালু করা যায়নি। বর্তমানে নীতিমালা পরিবর্তন করে টেন্ডারের মাধ্যমে সমবায় সমিতি, এনজিও বা আগ্রহী উদ্যোক্তার কাছে তিন বছরের জন্য লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’ তবে কেন্দ্রটি কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, আর কোনো দীর্ঘসূত্রতা না করে প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুত নিরসন করে কেন্দ্রটি চালু করা হোক। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এভাবে তালাবদ্ধ পড়ে থাকলে দামি যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে সরকারি বিনিয়োগের বড় অংশই অপচয়ে পরিণত হবে। একই সঙ্গে কৃষকের সুবিধার জন্য নির্মিত একটি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানও হারিয়ে যাবে কার্যক্রম শুরুর আগেই।
এমকে/বিএম২৪









