কালিয়াকৈরে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, কারখানায় অগ্নিসংযোগ
সংগৃহীত
শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন, সংঘর্ষ ও অবরোধে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এদিন সকাল থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড়, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কোনাবাড়ী থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে পড়েন। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সড়কে নেমে আসেন। একপর্যায়ে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করলে উভয় পাশে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। জবাবে শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার টপিক্যাল পোশাক কারখানা এবং মন্ডল গ্রুপের একটি ঝুটের গুদামে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে মহাসড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ এবং উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কাজ করেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
পুলিশ জানায়, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে চন্দ্রা ও সফিপুর এলাকার অন্তত ৩০টি পোশাক কারখানা রোববারের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, মহাসড়ক সচল রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিশৃঙ্খলা করতে চান না। তাদের উসকে দিয়ে একটি তৃতীয় পক্ষ দেশের শান্তিময় পরিস্থিতি নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এমকে/বিএম২৪








