ইমন হত্যার জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আমতলীতে সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪০ এএম
ইমন হত্যার জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আমতলীতে সড়ক অবরোধ

সূত্রঃ সংগৃহীত

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি


বরগুনার আমতলী একে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাবেদ ইমন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের একে স্কুল পয়েন্টে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।


পরে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।


নিহত ইমনের সহপাঠী হিরা, মেহেদী, জিসান, মিশকাত ও রাকিবসহ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি এবং জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তারা।


আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, আসামিরা অজ্ঞাত থাকায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


যেভাবে উদ্ধার হয় ইমনের মরদেহ


পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধ্য আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামের আউয়াল প্যাদার ছোট ছেলে জাবেদ ইমন আমতলী একে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ২৬ জুলাই বিকেলে তিনি আড়পাঙ্গাশিয়া বাজারে যান। পরিবারের দাবি, বাজারের ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার (হৃদয়) ইমনকে ডেকে তার দোকানে নিয়ে যান। সেখানে ইমনের বন্ধু সাজিদকে রেখে ইমনকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।


এরপর থেকে ইমনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের অভিযোগ, পরদিন ২৭ জুলাই আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বহিষ্কৃত ছাত্রদল সদস্য সচিব সগির বিশ্বাস ইমনকে খুঁজে পাওয়ার কথা বলে তার বাবার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং ইমন বালিয়াতলীতে আছে বলে জানান। এ ঘটনায় ইমনের পরিবারকে কয়েক দিন বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তার বাবা আউয়াল প্যাদা।


পরে ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় মধ্য আড়পাঙ্গাশিয়া এলাকায় পায়রা নদীর পাড় থেকে বস্তাবন্দি একটি মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানা পুলিশ। মরদেহ পচে যাওয়ায় তখন পরিবারের সদস্যরা সেটি শনাক্ত করতে পারেননি। পরদিন ৩০ জুলাই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিনই মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে বরগুনায় দাফন করা হয়।


এরপর ৩১ জুলাই আমতলী থানা পুলিশ ইমনের বাবা আউয়াল প্যাদাকে থানায় ডেকে বস্তাবন্দি মরদেহের পরিহিত পোশাক দেখায়। পোশাক দেখে তিনি মরদেহটি তার ছেলে জাবেদ ইমনের বলে শনাক্ত করেন। গত ৫ আগস্ট তিনি আমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


পুলিশ জানিয়েছে, ইমন হত্যার রহস্য উদঘাটনে নিদ্রা সকিনা নৌ-পুলিশের পরিদর্শক সাগর ভদ্রকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইমনের মরদেহ শনাক্ত হওয়ার পর সগির বিশ্বাস ও ব্যবসায়ী ইমরান তালুকদার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এর আগেও গত ৯ আগস্ট আমতলী একে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একই সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।


রোববারের অবরোধে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এক ঘণ্টা পর পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।