আইফোনের জন্য দেড় বছরের শিশুকে লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আইফোনের জন্য দেড় বছরের শিশুকে লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ

সূত্রঃ সংগৃহীত

জেলা প্রতিনিধি


পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আইফোন কেনার জন্য নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রি বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।


শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত মো. মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি।


পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তাঁর মাকে শিশুটিকে সাজিয়ে দিতে বলেন। বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাবা-ছেলে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।


পরে মুঠোফোনে মারুফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আইফোন কেনার জন্য তাঁর শিশুপুত্রকে দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় দিয়েছেন। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া টাকা দিয়ে মারুফ ঢাকায় গিয়ে একটি আইফোন কিনেছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।


শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম জানান, প্রায় চার বছর আগে মারুফ সাভার থেকে বৃষ্টি নামে এক তরুণীকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রায় তিন বছর পর তাঁদের ঘরে শিশুটির জন্ম হয়। প্রায় এক মাস আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে বৃষ্টি বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর মারুফ কিছুদিন বাড়িতে থাকার পর ঢাকায় চলে যান। শুক্রবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাড়িতে ফেরেন।


দাদি বলেন, শনিবার সকালে মারুফ তাঁকে নাতিকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন। বাজারে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, আইফোন কেনার জন্য শিশুটিকে এক লাখ টাকায় দেওয়া হয়েছে। নাতিকে ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চান তিনি।


এদিকে শিশুটিকে নেওয়ার অভিযোগ ওঠা ইমরান হোসেন দাবি করেন, মারুফ দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর কাছে ছেলেকে দেওয়ার কথা বলে আসছিলেন। তাঁর শ্বশুরের পাঁচ মেয়ে, কোনো ছেলে সন্তান নেই। এ কারণে মারুফের সঙ্গে আলোচনা করে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে লিখিতভাবে নেওয়া হয়। পরে শিশুটিকে তাঁর শ্বশুরের বাড়িতে রেখে আসেন বলে জানান ইমরান।


দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শিশুটিকে নেওয়ার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিকে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। উদ্ধারের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



এমকে/বিএম২৪