১৩ মাদ্রাসায় শতভাগ ফেল, কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
১৩ মাদ্রাসায় শতভাগ ফেল, কঠোর ব্যবস্থা

সূত্রঃ সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ  প্রতিনিধি


সিরাজগঞ্জে ২০২৬ সালের এসএসসি সমমান দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে। জেলার পাঁচ উপজেলার ১৩টি মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর পাসের হার শূন্য শতাংশ এবং অকৃতকার্যের হার শতভাগ।


সোমবার (১০ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার।


জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার আল আমিন রহমুনিয়া বি. আর আদর্শ মহিলা দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। উল্লাপাড়ার দক্ষিণপাড়া জররুননেছা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর দাখিল মাদ্রাসা ও সাতবিল্লাহ দাখিল মাদ্রাসা; তাড়াশের সরাপপুর ও হামকুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা; কামারখন্দের চর টেংরাইল আদর্শ দাখিল মাদ্রাসা এবং রায়গঞ্জের ফরিদপুর ইসলামিয়া, হাসিল, বি.এম ইসলামিয়া, কয়ড়া, মীরের দেউলমুড়া আর.এম মহিলা ও বাসুদেবকোল শ্রী রামপুরা দাখিল মাদ্রাসাও রয়েছে।


উল্লাপাড়ার কালিয়াকৈর দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একই উপজেলার সাতবিল্লাহ দাখিল মাদ্রাসায় ছয়জনের মধ্যে চারজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও পাস করেনি। সব মিলিয়ে উল্লাপাড়া উপজেলার ওই তিন মাদ্রাসায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২০ জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।


কালিয়াকৈর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মনসুর ইসলাম বলেন, এ বছর পরীক্ষার্থীরা নিয়মিত লেখাপড়া করেনি। ব্যাচটিও ভালো ছিল না। এ কারণে কেউ পাস করতে পারেনি বলে তিনি জানান।


উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, তিনটি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনে পাঠদানের মান, শিক্ষকদের উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অংশগ্রহণ, একাডেমিক তদারকি এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রোজিনা আক্তার বলেন, সিরাজগঞ্জের ১৩টি মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে।


এদিকে, ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশের ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



এমকে/বিএম২৪