বান্দরবানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকট নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর ৪টি স্মারকলিপি প্রদান
সূত্রঃ সংগৃহীত
মোঃ ওমর ফারুক,
বান্দরবান সদর প্রতিনিধি।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের নানা সংকট, জনদুর্ভোগ ও সীমাহীন সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো সরকারের নীতিনির্ধারকদের নজরে আনতে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে চারটি পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এই উদ্যোগ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়; বরং পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে বান্দরবানের সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রত্যাশারই প্রতিফলন।
১ম ও ২য় স্মারকলিপি: শিক্ষাখাতের সংকট নিরসন ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ
জেলার বিভিন্ন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং বিশেষ করে গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার মান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে বান্দরবান সরকারি কলেজ ও নার্সিং কলেজেও শিক্ষক সংকট প্রকট।
সবচেয়ে বড় দাবিটি হলো—বান্দরবান সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে (পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, জীববিজ্ঞান ইত্যাদি) দ্রুত স্নাতক (সম্মান) বা অনার্স কোর্স চালু করা। বিজ্ঞানে অনার্সের সুযোগ না থাকায় প্রতি বছর বহু মেধাবী শিক্ষার্থী এইচএসসি পাসের পর জেলার বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছে, যা অনেকের জন্যই ব্যয়বহুল ও কঠিন। তাই দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও শূন্যপদ পূরণ।
৩য় ও ৪র্থ স্মারকলিপি: স্বাস্থ্যসেবার সংকট, জনবল ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন
বান্দরবান সদর হাসপাতালসহ রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ির মতো দুর্গম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মেডিকেল অফিসার, নার্স ও টেকনিশিয়ানের বহু পদ খালি পড়ে আছে। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে জরুরি রোগী পরিবহনে পাহাড়ি রাস্তার উপযোগী সচল অ্যাম্বুলেন্সের তীব্র অভাব রয়েছে। অন্যদিকে, নির্মাণকাজ শেষ হলেও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু না হওয়ায় সদর হাসপাতালে রোগীর উপচে পড়া চাপ সামলানো দায় হয়ে পড়েছে।
এ সংকট নিরসনে স্মারকলিপিতে তুলে ধরা প্রধান দাবিগুলো:
১. ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা।
২. সদর হাসপাতালসহ প্রতিটি উপজেলায় জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও পদায়ন।
৩. দুর্গম উপজেলাগুলোর জন্য ফোর-হুইল ড্রাইভ (4WD) অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা।
৪. ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দ্রুত চালু করা।
৫. বান্দরবান পার্বত্য জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও সমন্বিত মডেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া।
আমরা স্পষ্টভাবে বিশ্বাস করি—শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কোনো বিলাসিতা নয়, এগুলো মানুষের মৌলিক অধিকার। ভৌগোলিকভাবে দুর্গম হওয়া কোনো এলাকার মানুষের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থাকার কারণ হতে পারে না। বান্দরবানের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও বাস্তব সমস্যাগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই দায়িত্বশীল উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।
এক সমান সুযোগের জেলা।
এমকে/বিএম২৪









