জামাইয়ের নির্দেশনায় বর্ডার ক্রস, আত্মগোপনে থাকা নানকের দেশছাড়ার বর্ণনা

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:১০ এএম
জামাইয়ের নির্দেশনায় বর্ডার ক্রস, আত্মগোপনে থাকা নানকের দেশছাড়ার বর্ণনা

সূত্রঃ ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক


জাহাঙ্গীর কবির নানক তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য। দু’বারের সাবেক মন্ত্রী। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি আনন্দবাজারের মুখোমুখি হয়েছেন। দলটির পরবর্তী রাজনীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারে অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন।


প্রশ্ন: জাহাঙ্গীর কবির নানক কেমন আছেন আপনি?

নানক: দেখেন আসলে আমরা রাজনীতি করি। আমরা একটা পরিবার। এই পরিবারটি যখন ভালো না থাকে, তখন আমরা কেউ ভালো থাকি না মানসিকভাবে।


প্রশ্ন: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই আপনি আত্মগোপনে রয়েছেন। জীবনে কি এটাই প্রথম আত্মগোপন?

নানক: অনেক আত্মগোপনের ইতিহাস আছে আমার। আমি স্কুল জীবন থেকে রাজনীতি শুরু করেছি। ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন থেকে। ১৯৭১ সালে ভারতে আসা, ট্রেনিং নেয়া। অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢোকা, মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করা, দেশ স্বাধীন করা ইত্যাদি। এরপর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা, সেদিন যে অশুভ শক্তির যাত্রা শুরু হয়েছিল, বাংলাদেশ বা স্বাধীনতা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি...তখন থেকে কিন্তু আমাদেরকে আত্মগোপনে জীবন কাটাতে হয়েছে। কিন্তু খুব বড় আত্মগোপনে আমাদেরকে যেতে হয়েছে যেমন— খালেদা জিয়ার শাসনামল, অর্থাৎ বিএনপি ও জামায়াতের শাসনামলে। আমরা কাজ করেছি, সংগঠন করেছি, মিটিং করেছি। আবার আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে।


প্রশ্ন: দীর্ঘ সময় ঘর ছাড়া, দেশের কথা মনে পড়ে? বন্ধু ও পরিজন-পরিবার কাদের কথা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে আপনার?

নানক: সত্যি কথা বলতে কী—আমরা কর্মী পাগল মানুষ তো। কখনো কখনো আমার বুকটা ফেটে যায়। ১৯৭১ সালে আমি একেবারে পাকিস্তানি পাঞ্জাবী বাহিনীর বিরুদ্ধে ফ্রন্ট ফাইট করেছি। একটা আদর্শিক যুদ্ধ করেছি। সংগ্রাম করেছি। লড়াই করেছি। যা ঘটলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে আমাদের চোখের সামনে আমরা একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেখছি যে, বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু কী অপমানজনকভাবে তারা ভেঙেচুরে চুরমার করেছে। ধানমন্ডি ৩২-কে ভেঙে গুড়িয়ে দিল বুলডোজার দিয়ে। তখন তো প্রশ্ন জাগেই, আমি বেঁচে ছিলাম কেন? বেঁচে আছি কেন বা এই ঘটনা দেখার আগে কেন মৃত্যু হলো না! তারস্বরে আমি চিৎকার করে বলতে পারি যে, এই ঘটনার আগে যদি আমার মৃত্যু হতো, তাহলে সেই মৃত্যু হতো আমার শান্তির মৃত্যু। আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের স্বাধীনতা এনেছি। 

ওরা স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল, সেই পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা, পায়ের জুতা খুলে গালে পিটানো, এগুলো দেখতে হয়েছে আমাদেরকে। গত দু’বছরে কোনো রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। ভোরবেলা যে আজান দেয়, সেই ফজরের নামাজ পড়ার পরে একটু টায়ার্ড হয়ে শরীর যখন ছেড়ে দেয় তখন ঘুমাতে যাই। এটা মনে পড়ে। আর আরেকটা মনে পড়ে—ছেলেটার কবরের কাছে যেতাম। আমি দুই বছর যাবত যেতে পারছি না। মা-বাবার কবরটার কাছে অনেকদিন যেতে পারি না। এগুলো নিয়ে কোনো দুঃখ নেই। দুঃখ আমার একটি জায়গায়। ৫ আগস্ট যারা ক্ষমতা দখল করেছে—তারা বাংলাদেশবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী। এরা গণতন্ত্রবিরোধী, এরা মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি। এরা পাকিস্তানের দালাল, পাকিস্তানপন্থী। বাংলাদেশটাকে এখনো মানতে পারেনি। ওরা আবার এটাকে পাকিস্তান বানাতে চায়।


প্রশ্ন: আপনি কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন, কীভাবে ভারতে এলেন, কারা আপনাকে সাহায্য করলেন?

নানক: ৪ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আমি গণভবনে ছিলাম। আমি চলে আসলাম পরের দিন ফিফথ আগস্ট (৫ আগস্ট)। নেত্রী যখন চলে আসলেন। আমি আসলে প্রায় একেবারে পড়েই গিয়েছিলাম আমার শোয়ার জায়গায়। যখন আমার চৈতন্য উদয় হয়, তখন এক ক্লোজ রিলেশন এয়ারফোর্স, ও আমাকে ফোন করল। বলল যে, স্যার অমুকে ফোন করছে। তখন একটু বোধদয় হয়ে আমি ধরলাম। তো বলল যে, চিন্তা করবেন না, উনি বর্ডার ক্রস করেছেন সেফলি। এই আমি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলাম। তারপর তো একের পর শেল্টার চেঞ্জ করছি। ইউজ করার টেলিফোনগুলো ফেলে দিলাম। এরপরে একটি পর্যায়ে বুঝতে পারলাম যে, আমাকে এখন ধরার জন্য তারা মরিয়া হয়ে যাবে। ডিসাইড করে ফেললাম—আই হ্যাভ টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমার জামাই ডাক্তার, ফোন করল যে-বাবা আপনি বেরিয়ে যান। আমি যেভাবে যেভাবে বলব সেভাবে বেরিয়ে যাবেন এবং সে-ই গাইডটা করেছে মূলত। সে গাইডটা করে নিয়ে এসেছে, বের করে এনেছে। কারণ ৫ আগস্ট তো—আর আমি ১৬ আগস্ট বর্ডার ক্রস করতেছি।


প্রশ্ন: ১৬ আগস্ট কি কলকাতায় এলেন?

নানক: না না আমি তো ১৬ আগস্ট শিলংয়ে পৌঁছলাম। শিলং থেকে আমি চলে আসলাম মালদাহতে। বিকজ মালদাহতে আমার নাতি-নাতনি, মেয়েরা ওরা গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সেখান থেকে আমি পরের দিনে চলে আসলাম কলকাতায়।


প্রশ্ন: নেতাকর্মীদের বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে আসার কারণে অনেকেই শেখ হাসিনার সমালোচনা করেন। আপনি একজন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে এই সিদ্ধান্তকে কীভাবে দেখেন?

নানক: ৫ আগস্ট যদি ৩০ মিনিট দেরি করতেন, তাহলে আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ওইদিন গণভবনে থাকা তার ছোট বোন শেখ রেহনাকে নির্মমভাবেই শুধু হত্যা করত না, নৃশংস নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করত। আজকে বেঁচে আছেন বলেই আজ সারা বিশ্ব বিবেক, ১৮ কোটি মানুষের বিবেক মিলে কিন্তু বলছে যে, শেখ হাসিনা ছাড়া এই দেশ পরিচালনা মতো যোগ্য নেতৃত্ব আর দ্বিতীয় কেউ নেই।


প্রশ্ন: আচ্ছা ভারত সরকার কি আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট রক্ষাকবজ দিয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যাটাস মানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চাপ এলে আপনার পদক্ষেপ কী হবে?

নানক: আমরা তো বিশ্বাস করি—যেকোনো চাপ বাংলাদেশের এই কচুপাতার পানির মতো যারা টলটলায়মান, সেই সরকারের কতখানি চাপ দেয়ার ক্ষমতা আছে? এবং সে চাপ যতই যাই হোক না কেন—এটা সামাল দেয়ার ক্ষমতা ভারত সরকারের আছে।


প্রশ্ন: সরকার এবং দলের বিপর্যয়ের নেপথ্যে কী কী কারণ থাকতে পারে। মানে যে ভুল আপনারা আর করবেন না, মানে আপনার মূল্যায়ন কি?

নানক: আমরা একটা গভীর ষড়যন্ত্রের, ডিপ স্টেট ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম।



প্রশ্ন: ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকলেন পরপর টানা। কিছুতেই বুঝতে পারলেন না যে কোথা থেকে এই লিকেজটা হলো?

নানক: না আমরা বুঝতে পারিনি—এ কথা আমি স্বীকার করবো না। আমি যদি কিছুটা টের পেয়ে থাকি, তাহলে আমার নেত্রী—উনিও কিন্তু বুঝতে পেরেছিলেন। উনি বুঝতে পেরেছিলেন বলেই কিন্তু ৬ মাস আগে থেকে বলা শুরু করেছেন যে, আমাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে, ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সাদা চামড়াওলারা এভাবে...কোট আনকোট আমি বলছি—‘সাদা চামড়াওয়ালারা আমাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে চায়’। ড. ইউনূস আমার বিরুদ্ধে সরকার পতনের জন্য ষড়যন্ত্র করছে। আমি সাগর পাড়ি দিয়েও ওদিকে যাবো না, বাঙালি যাবে না। দেশবাসীকে কিন্তু উনি ওয়েল ইনফর্ম করেছেন। দলকে উনি ওয়েল ইনফর্ম করেছেন। সতর্ক করেছেন। দেখেন, আমি একটা কথা বলে রাখি—আমাদের যে দলীয় ব্যর্থতা বা দলীয় দুর্বলতার প্রশ্ন থাকতেই পারে আপনাদের কাছে। কারণ পৃথিবীতে অনেক জায়গায় আছে ডিপেস্টেট—এ ধরনের কন্সপাইরেসি করেছে। কোথাও কোথাও সফল হয়েছে, কোথাও কোথাও ব্যর্থ হয়েছে।


আমি আপনাকে বলছি—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেদিন এই তথাকথিত কোটাওয়ালারা অর্থাৎ মূলত শিবির দখল করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে, সেদিন ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি নেত্রীকে ফোন করেছেন। আমি ফোন করেছি প্রধানমন্ত্রীকে। বলেছেন হল ছেড়ে দাও। ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস ছেড়ে দাও। খবরদার কোনো সংঘাতে যাবা না। আমি চাই না কোনো লাশ পড়ুক। কোট আনকোট করে বললাম—আমি এবং আমি দায়িত্ব নিয়েই বললাম যেটা উনি বলেছেন। ৫০ হাজার লোক নিয়ে আমার গণভবন ঘেরাও করে রাখার ক্ষমতা ছিল না! অবশ্যই ছিল। আমাদের জমায়েতের শক্তিতে ওরা হারিয়ে যেত। উনি যদি আমাদেরকে শুধু চোখের ইশারা দিতেন—তাহলে ঢাকা শহরে আমরা পাঁচ থেকে ১০ লক্ষ লোকের জমায়েত করে ফেলতে পারতাম। আমাদের যে বেজলাইনটা আছে-ফ্রম ঢাকা টু মাওয়া, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট এগুলো তো আমাদের বেজলাইন। গাজীপুর শক্ত ঘাঁটি, গাজীপুরকে বলা হয় এনাদার গোপালগঞ্জ। গাজীপুর থেকে এক লক্ষ লোক ঢুকে যেতে পারতো। ঢাকার বুড়িগঙ্গার পার হলে পরে কেরাণীগঞ্জ। আমাদের শক্ত ঘাঁটি। ঢাকার অদূরেই নারায়ণগঞ্জ আমাদের শক্ত ঘাঁটি। ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথেই শক্ত ঘাঁটি নরসিংদী। আমরা সব ফাঁক-ফোকরগুলো বন্ধ করে দিয়ে কিন্তু দখল নিতে পারতাম। সেখানে কিন্তু আরেকটি সম্ভাবনা থাকতো। সেটা ওদের হাতে অস্ত্রের খবর তো আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে, আমাদের নেত্রীর কাছে ছিল।


প্রশ্ন: কো-ল্যাটারেল ড্যামেজ অনেক বেশি হতে পারতো?

নানক: অনেক অনেক হয়ে যেত। আমরাও কি ছেড়ে দিতাম? নো, আমি বলছি—আমার এই বয়সেও আমি ছাড়তাম না। একটা লাঠি নিয়ে হলেও আমি দাঁড়িয়ে যেতাম। উনি রক্তপাত চাননি। আমরা কি না পারতাম! দিস ইজ আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব না। সম্ভব হয় নাই। আপনি কালকে ভোট দেন, একটা ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট আসুক। একটা একশ পারসেন্ট, ফেয়ার অ্যান্ড ফ্রি ইলেকশন দিক—যদি আমরা টু থার্ড মেজরিটি না পাই.....প্রমাণ হোক জাতিসংঘ বাহিনী আসুক। এসে নির্বাচন করুক। যদি আওয়ামী লীগ টু থার্ড মেজরিটি না পায়—তাহলে আমরা নাকে খত দিয়ে সবাই একসঙ্গে রাজনীতি ছেড়ে দেব।


প্রশ্ন: কেন ভারত? ওয়াশিংটনে জয় রয়েছেন, শেখ হাসিনার ছেলে রয়েছেন বা উনার লন্ডনেও একবার যাওয়ার কথা হচ্ছিল যে, লন্ডনেও চলে যেতে পারেন। তিনি ভারত কেন ?

নানক: ভারতের ওপর দায়-দায়িত্ব যেটা দিতে চায়—এটি তো সঠিক না। তারা ভারতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার কারণে,  এসএসএফ-এর অফিসার ও বিমান বাহিনীর অফিসার সবাই মিলেই তো তারা দিল্লিতে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছেন। কাজেই এখানে ভারতের কী করার ছিল।


প্রশ্ন: ভারতের তরফ থেকে এই অপারেশনটা লিড কে করেছিল? আপনাদের কাছে কি খবর আছে?

নানক: আমি এটা এখন বলতে পারছি না।


প্রশ্ন: শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হয়েছে?

নানক: হ্যাঁ


প্রশ্ন: কেমন আছেন তিনি?

নানক: আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো আছেন উনি। আমি অনেক কৃতজ্ঞ ভারত সরকারের প্রতি। যে নিরাপত্তা উনাকে দেওয়া হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকলই দেওয়া হচ্ছে। আমরা যখন জিজ্ঞাসা করি—ইভেন এখনো টেলিফোনে যখন জিজ্ঞাসা করি আপা কেমন আছেন, নেত্রী কেমন আছেন? আমি ভালো আছি তোমরা ভালো আছো কি না তাই বলো। আমার নিয়ে তোমরা চিন্তা করবে না। বিশ্বাস করেন আপনাকে বলছি—আমি এমনটা খুব রিসেন্ট জিজ্ঞাসা করেছিলাম। বলেন জানো না, এই দুই বছরে আমার (হাসিনা) শুধু দু’দিন নাকে সর্দি লেগেছিল! এই দু’দিনের সর্দি লাগা ছাড়া আজ পর্যন্ত আমার একটি ঔষধও খেতে হয় নাই। ইনশাআল্লাহ। দোয়া করো তোমরা সবাই।


প্রশ্ন: কলকাতায় নাকি আওয়ামী লীগের অফিস রয়েছে। শীর্ষ নেতারা নাকি সেখানে বৈঠক করেন। খবর বেরিয়েছিল। এটা কি সত্য?

নানক: বিভিন্ন খবর বের হয়। এগুলা মুখরোচক।


প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর?

নানক: না না এর কোনো ভিত্তি নেই। হ্যাঁ আমাদের যদি কেউ একটু জায়গা দেয় যে, এখানে এসে বসেন আপনারা। মাঝে মাঝে আইসেন। আমরা যাব না? আমরা তো যাবই। আমরা তো একটা জায়গা পেলে আমরা তো একটু সময় কাটানোর জন্য, অক্সিজেন নেয়ার জন্য যেতেই পারি। কিন্তু অফিস বলতে কোনো জিনিসের অস্তিত্ব নাই এখানে।


প্রশ্ন: ঢাকা মহানগর উত্তর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় সংগঠন কীভাবে পরিচালনা করছেন?

নানক: আমি কলকাতায় যে আসলাম—সেদিন থেকেই আমি আমার এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করি। তাদের সুখে-দুঃখে কষ্ট-ক্লেশের আমি ভাগীদার হওয়ার চেষ্টা করি। এটা আমার পুরানো অভ্যাস—সেটা আমি চেষ্টা করেছি। যারা জেলে, গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর রাখা, সুখ-দুঃখের ভাগী হওয়া। এ ক্ষেত্রে আমি না বললে ওর প্রতি অবিচার করা হবে—আমার মেয়েটি, যে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের মা ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক, ও খুব বেশি সময় দেয় আমার নির্বাচনী এলাকায়। জেলে যারা গেল, আমাদের কর্মীদের আর্থিক অবস্থা তো ভালো না। তাদের খোঁজখবর রাখা—এ কাজগুলো করছে। আমি আপনাকে বলতে পারি—আমার নেত্রীর নির্দেশে ইন ঢাকা সিটি, এই ঢাকা-১৩ থেকে উই হ্যাভ স্টার্টেড দ্য পসেশন অ্যান্ড আদার থিংস। অনেক গ্রেপ্তার হয়েছেন। কখনো মিছিল, কখনো ওটাকে বলে মশাল মিছিল। ইউ নো এগুলো করতে গিয়ে অনেককে গ্রেপ্তার হয়েছেন।


প্রশ্ন: আমার স্পেসিফিক প্রশ্ন—আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ জুলাই আন্দোলনে মোহাম্মদপুরে হত্যাকাণ্ডে আপনি অভিযুক্ত। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আপনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আপনি নিজে একজন আইনজীবী। আত্মসমর্পণ করবেন, নাকি লড়বেন?

নানক: আমি কৌশলগতভাবে লড়ছি, লড়াই করছি আইনগতভাবে।


প্রশ্ন: এই যে ৯ জনের হত্যার অভিযোগে আপনি অভিযুক্ত এটা কি সত্যি?

নানক: উদর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপড়ানোর চেষ্টা। যে অভিযোগগুলো আমার কাছে, আমার কাছে আছে—টোটাল মামলার নথি। এর সব জায়গায় বলে গেছে তার নির্দেশে... তার নির্দেশে... তার নির্দেশে...। কিন্তু কোথাও কোনো সাক্ষী বলেননি যে, ওনাকে দেখেছি। তো সপ্তম আসমানে বসে কে নির্দেশ দিল তাকে? কীভাবে মারা গেল, কার গুলিতে মারা গেল—সেটা তো আমার জানার কথা না। আমি কি ওখানে অস্ত্র নিয়ে গুলি করতে গিয়েছি? এরকম কোনো প্রমাণ আছে? দেখাতে পারবে? বলুক। আইন ও আদালত, বিচারালয় যদি আইনের গতিতে চলে আমি আপনাকে বলতে পারি—যত হত্যা মামলা দিয়েছে ইনক্লুডিং আমার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইসিটি আদালত থেকে শুরু করে। কোনো মামলা টিকবে না। কোনো মামলার অস্তিত্ব থাকবে না।


প্রশ্ন: আমার দুটো প্রশ্ন খুব সংক্ষিপ্ত। কিন্তু খুব প্রয়োজনীয় প্রশ্ন-ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরছেন, আপনি ফিরবেন?

নানক: অবশ্যই আমি, আমরা তো ওনার আগে যাব, পৌঁছবো। পৌঁছাবোই।


প্রশ্ন: আমার শেষ প্রশ্ন বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি আবারও দেখা যাবে জাহাঙ্গীর কবির নানককে?

নানক: বেঁচে থাকলে দেখা যাবে। আমি যাতে মৃত্যুবরণ না করি, দোয়া করবেন।


সূত্র: ইত্তেফাক