গাজী নজরুলের বাসা থেকে উদ্ধার মরিয়মের শেষ চিঠিতে যা লেখা

প্রকাশিত: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৫ পিএম
গাজী নজরুলের বাসা থেকে উদ্ধার মরিয়মের শেষ চিঠিতে যা লেখা

নিজস্ব প্রতিবেদক


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা কয়েকটি চিঠিতে সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভালোবাসা, বিশ্বাসভঙ্গ, মানসিক কষ্ট ও আত্মসম্মানের কথা উঠে এসেছে। তবে চিঠিগুলোর হাতের লেখা মরিয়ম খাতুনের কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চিঠিগুলো পরীক্ষা করে দেখা হবে।


জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাডে কালো কালি দিয়ে লেখা একটি পাতায় সম্পর্কের পরিণতি নিয়ে আক্ষেপের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’


অন্য একটি সাধারণ কাগজে ভালোবাসা ও অধিকার নিয়ে লেখা হয়েছে, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী—কাগজে-কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা...!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ...!!! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’


আরেকটি পাতায় প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি তুলে ধরে লেখা হয়েছে, ‘সে বলেছিল—আজ থেকে আমরা বন্ধু, চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’


জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা আরেকটি পাতায় বিশ্বাসভঙ্গ ও পরিণতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে লেখা, ‘আমি হেরেছি—তুমি জিতেছো—কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি, শৃঙ্গের শেষ বাড়িয়ে ও হাসতে হাসতে মুখে হাসি রেখেছি—দেখে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’


লাল কালিতে লেখা একটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় আত্মসম্মানের কথাও উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই … তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই...!’


চিঠিগুলোর সঙ্গে ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখ লেখা একটি পাতাও পাওয়া গেছে। সেখানে ঘুমানোর আগে করণীয় কয়েকটি ধর্মীয় আমলের তালিকা রয়েছে। এতে কালেমা, দরুদ শরিফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসি, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম ২১ বার, আস্তাগফিরুল্লাহ ৩ বার, ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া এহিয়া’, দরুদ শরিফ ১১ বার এবং ‘ইয়া আরহামার রাহিমিন’ ১১ বার পড়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।


রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে অবস্থিত সংসদ সদস্যদের বাসভবন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।



এমকে/বিএম২৪